× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশ উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব ও দীপক দেব

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ১২:০৫ পিএম

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬ ১৩:২০ পিএম

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ১৭ ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ১৭ ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা ব্যাপক কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছেন এই অধিবেশনের। কেননা এই অধিবেশনেই নির্ধারণ হবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উত্থাপন করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির জারি করা সব অধ্যাদেশ। সেই হিসেবে আগামীকালই সংসদে উত্থাপিত হবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। সেগুলো আইনে পরিণত করতে সময়সীমা মাত্র ৩০ দিন। তবে সব অধ্যাদেশই আইনে পরিণত হবে নাকি কিছু বাদ যাবেÑ সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা এসব অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে সেগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পর্যালোচনা শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। নীতিনির্ধারক মহলে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এজন্য এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে পেশ করার পর বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। জনস্বার্থ ও আইনি যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোনগুলো আইনে পরিণত করা হবে। 

অন্যদিকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তাদের এই বৈঠক সংসদকে প্রাণবন্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অধ্যাদেশ জারির প্রেক্ষাপট 

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এই ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৫৯ দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তখন সংসদ কার্যকর না থাকায় আইন প্রণয়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিভিন্ন খাতে সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তগুলোই পরবর্তীতে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। সরকারি সূত্র জানায়, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এবং জনসেবামূলক খাতে কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত সারসংক্ষেপ তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই সারসংক্ষেপে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছেÑ অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা ও আইনে পরিণত না হলে সম্ভাব্য প্রশাসনিক জটিলতা। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অধ্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরু হয়ে গেছে। ফলে এগুলো আইনে রূপ না পেলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।”

১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলোÑ গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫; জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬; ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪; সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০২৫; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরের বয়স বাড়িয়ে নিয়োগের বিশেষ অধ্যাদেশ।

সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারসংক্ষেপগুলো যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে আইন মন্ত্রণালয় বিলের খসড়া চূড়ান্ত করবে। এরপর সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। আইনে পরিণত করতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তুলতে হবে এসব অধ্যাদেশ। পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এগুলোকে পৃথক পৃথক বিল আকারে আনা হতে পারে। এই অধ্যাদেশগুলো যে যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত, সেই মন্ত্রণালয়গুলো এগুলো সংসদে উপস্থাপন করবে। আলোচিত যে অধ্যাদেশগুলো মানুষকে স্পর্শ করে, সেগুলোর ওপর বেশি আলোচনা ও বিতর্ক হবে। 

সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত প্রতীকী হলেও এবার আইনগত দিক থেকে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাদের মতে, অধ্যাদেশ ব্যবস্থাটি জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি আইন প্রণয়নের বিকল্প হতে পারে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, “অধ্যাদেশ জারি করা সংবিধানসম্মত। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল জায়গা হলো সংসদ। তাই যত দ্রুত সম্ভব সংসদের মাধ্যমে সেগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।’ তার মতে, সংসদে আলোচনা হলে দুটি বিষয় পরিষ্কার হবেÑ আইনগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো। আরেকজন নীতি বিশ্লেষক বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী আইন করতে গেলে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।”

বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসামুজ্জামান জানিয়েছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশই উপস্থাপন করতে চায়। এজন্য অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আপাতত এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদে অনুমোদন না হলে অধ্যাদেশগুলোর আইনগত বৈধতা থাকবে না। আইনগত বৈধতার স্বার্থে ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো সংসদে উত্থাপন ও অনুমোদন করা প্রয়োজন। তবে সব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করতে সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের আওতায় জারিকৃত অধ্যাদেশ আইনের সমমর্যাদা রাখলেও সংসদ অধিবেশন বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না হলে এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।

সামনে কী হতে পারে

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম কয়েকটি অধিবেশনেই আইন প্রণয়নের একটি বড় কর্মসূচি দেখা যেতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো এখন নতুন সংসদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য এগুলোকে সংসদের আলোচনার মাধ্যমে আইনে রূপ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, সংসদে আলোচনার পর এসব অধ্যাদেশ কতটা পরিবর্তিত হয় এবং কোনগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হয়।

সরকার ও বিরোধীদলীয় হুইপদের বৈঠক

গত সোমবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন তারা। 

বৈঠকে জাতীয় স্বার্থে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেনÑ রফিকুল ইসলাম খান, আবুল হাসনাত এবং নূরুল ইসলাম।

এ সময় ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে সরকার গঠন করেছে, সেখানে সংসদের সব কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সংসদ প্রাণবন্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা