প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ০০:০০ এএম
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি)’ প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর মেয়াদ জুলাই ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
প্রকল্পটির লক্ষ্য বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের যুবসমাজ, নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা। তিনটি প্রধান কম্পোনেন্টের আওতায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিল্পকারখানা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (আরপিএল) কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৭২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইনস্টিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট গ্রান্ট (আইডিজি) দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৭০০ শিক্ষক ও কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া তিন মাস মেয়াদি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ হাজারের বেশি পুরুষ এবং প্রায় ৪৮ হাজার নারী রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী দক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় শিল্পকারখানা ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী বাস্তব কর্মপরিবেশে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে আরপিএল কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো কর্মীর মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী ৩৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৭৯ হাজার ১৯০ জনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮৭ শতাংশ সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এএসএসইটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণদের দক্ষতা বাড়বে এবং দেশ-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।