প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪১ পিএম
মিরপুর-২ এ বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দুই বিমান বাহিনীর সদস্য শেখ রাকিবুজ্জামান ও আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার মিরপুর-২ এ বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুইজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা ও শেখ রাকিবুজ্জামান।
মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই রহিমা মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসআই রহিমা বলেন, “নিহতরা দুজনই বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। দুইজন নিহতের ঘটনা পৃথকভাবে আমাদের দুজন অফিসার তদন্ত করছেন”।
মঙ্গলবার মিরপুর থানায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবং শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়। তারা দুজনেই ভবনের চার ও পাঁচ তলার মাঝামাঝি সিঁড়ির মাঝে আটকা পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা শাজাহান সিরাজ।
স্বজনদের ভাষ্য, তারা ঈদের কেনাকাটা করতে এলএ প্লাজায় গিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন তারা। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে মিরপুর-২ এর ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবন এলএ প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় ভবনে আটকা পরেন অনেকে। পরে ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। তবে ঘটনার রাতে ফায়ার সার্ভিস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দিলে মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। তাদের প্রচেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা শাজাহান সিরাজ জানান, মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ওই ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে থাকা অনেকেই নিরাপত্তার জন্য ছাদে উঠে যান, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন তলায় আটকা পড়েন।
তিনি আরও জানান, টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চার ও পাঁচ তলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।