ফারুক আহমাদ আরিফ ও কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৫ এএম
ঢাকার বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি) পাইলটিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি) পাইলটিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পাইলট কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারের নারী প্রধান এই কার্ড পাবেন। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ভাতা দেওয়া হবে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে; পরে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ১৩ জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরের জন্য ৩৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব টাকার মধ্যে ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে এবং ১২ দশমিক ৯২ কোটি টাকা কার্ড বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তসহ মোট ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই প্রকল্প নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানাতে সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলন করে। এতে বক্তৃতা করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড
সরকার প্রাথমিকভাবে সারা দেশের ১৩ জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করছে। প্রথম ধাপে হতদরিদ্র ও দরিদ্র শ্রেণির পরিবার এ কার্ড পাবে। এসব পরিবার বাছাই করতে সরকার সারা দেশে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারপ্রধানের তথ্য সংগ্রহ করে। সেখানে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তসহ মোট ৫টি শ্রেণিতে জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করা হয়েছে। তার মধ্য থেকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত পরিবারের ৫১ হাজার ৮০৫ খানার তথ্য যাচাই করে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার সঠিক তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্য থেকে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে আমরা জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকেই কার্ড পাবে। কর্মসূচিটির পাইলটিং কার্যক্রম ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে এটি আরও বিস্তৃত করা হবে। মধ্যব্ত্তি ও উচ্চবিত্তরাও কার্ড পাবে, তবে তারা তা নিজেরা ব্যবহার করবে না। সেগুলো দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ব্যবহৃত হবে।
বিএনপির রূপকল্প, দর্শন ও ফ্যামিলি কার্ডের উৎস : ফ্যামিলি কার্ডের উৎস মূলত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ; যেখানে বলা হয়েছে যে, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব, অকাল বৈধব্য বা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার নাগরিকের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এই সাংবিধানিক অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে রাষ্ট্র বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম মূলত এই সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে একটি সুসংগঠিত এবং আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর রূপ দেওয়ার বৈপ্লবিক প্রয়াস।
বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট পলিসি পেপারে সামাজিক নিরাপত্তার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই রূপকল্পের মূল স্তম্ভ হলো : পরিবারই উন্নয়নের মূল একক; পলিসি পেপারের প্রধান দর্শন হলোÑ সামাজিক নিরাপত্তাকে কেবল একজন ব্যক্তির প্রাপ্য ভাতা হিসেবে না দেখে পুরো পরিবারকেই একটি ‘স্বনির্ভর ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা। এই দর্শনের আলোকেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উদ্ভাবন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নিয়ন্ত্রণ
এই কার্যক্রমের একটি বৈপ্লবিক দিক হলোÑ ফ্যামিলি কার্ডটি ইস্যু করা হবে পরিবারের মা অথবা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে। এর উদ্দেশ্য হলো, সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করা। বিএনপি মনে করে, নারীর হাতে অর্থসহায়তা থাকলে তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
উন্নয়ন সিঁড়ি
বিএনপির পলিসি অনুসারে, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি নগদ সাহায্যের মাধ্যম নয়। এটি দরিদ্র পরিবারগুলোকে দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার একটি মাধ্যম বা ‘উন্নয়ন সিঁড়ি’, যার মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে সক্ষম হবে।
পরিবারপ্রতি কত টাকা মিলবে
পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকার মধ্যে ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ ৬৬ দশমিক ০৬ শতাংশ সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। বাকি ১২ দশমিক ৯২ কোটি টাকা অর্থাৎ ৩৩.৯৪ শতাংশ অর্থ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুত ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।
প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও মানদণ্ড মাপা হবে নির্ধারিত স্কোরের মাধ্যমে। ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি)’ স্কোরিং পদ্ধতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। এই স্কোর বোর্ডকে ৫টি ধাপে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে ৭৭৭ পর্যন্ত স্কোরধারী পরিবার অতিদরিদ্র, দ্বিতীয় ধাপে ৭৭৮ থেকে ৭৯৬ স্কোরধারী দরিদ্র, ৭৯৭ থেকে ৮১৪ স্কোরধারী ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, ৮১৫ থেকে ৮৩৭ স্কোরধারী নিম্নমধ্যবিত্ত এবং ৮৩৮ থেকে ১ হাজার স্কোরধারী পরিবার সচ্ছল বা উচ্চবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম পর্যায়ে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের স্কোরধারী পরিবারগুলো যুক্ত হবে। ডিএসআর পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছরই এই স্কোরিং হালনাগাদ করা হবে। যাদের পিএমটি স্কোর ৭৯৬-এর নিচে চলে আসবে অর্থাৎ প্রথম দুটি ধাপের মধ্যে থাকবে, তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং সেই কার্ড দিয়ে টিসিবির পণ্য কেনার সুবিধা নিতে পারবেন। স্কোর ৭৯৬-এর ওপরে হলে তাদের টিসিবি কার্ড বাতিল হবে। আবেদনকারী তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে থাকা পিএমটি স্কোরিং ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য থেকে ১০০০-এর মধ্যে প্রযোজ্য স্কোর জানাবে।
ফ্যামিলি কার্ডই হবে পর্যায়ক্রমে সোশ্যাল আইডি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া)-এর ১.৫ অনুচ্ছেদে ভিশন ২০৩০ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দেশকে আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়ের ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রে’ রূপান্তর করা। ২০৩০ সালকে সামনে রেখে এই কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণীত হয়েছে। এই ফ্যামিলি কার্ডকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ বা ‘সামাজিক পরিচিতি সনদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এটি হবে উন্নত দেশগুলোর ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার’ (এসএসএন) ব্যবস্থার মতোÑ যা একজন নাগরিকের সকল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। এটি নাগরিক অধিকারের ডিজিটাল ভান্ডার হিসেবেও কাজ করবে এবং সরকারি সকল নাগরিক সেবা গ্রহণের ‘একক প্রবেশদ্বার’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক নারীপ্রধান পরিবার এ কার্ড পাবে। পরিবারপ্রতি সদস্য সংখ্যা হবে ৫। এর বেশি হলে একাধিক কার্ড ইস্যু করা হবে। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণকারীর অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন কার্ড তথা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ অন্য সব ভাতা বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ভাতাভুক্ত থাকলে তা অব্যাহত থাকবে।
কার্ড হবে নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য
খসড়ায় বলা হয়েছে, কার্ড পাওয়ার প্রকৃত ব্যক্তি নির্ধারণ করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্সপ্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে। ইউনিয়ন কমিটির যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি অধিকতর যাচাই করে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করবে।
এ ব্যাপারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। বরং প্রকৃত পরিবারকে সরকারই খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে গিয়ে কার্ড দিয়ে আসবে। কেননা বিগত সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা ও কার্ড নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। আমরা সে পথে যাব না।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্পর্শবিহীন চিপ সংবলিত আধুনিক ফ্যামিলি কার্ডে বার কোডে তথ্য ও নিয়াও ফিল্ড কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।
বাতিল হবে যেসব সুবিধা
পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন/ভাতা/অনুদান/পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে সেই পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না। এ ছাড়াও পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন : গাড়ি, এসি) থাকলে বা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না। তা ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি টু পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।