প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬ ২১:২০ পিএম
ফাইল ফটো
একই ব্যক্তিকে দুবার স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ রেখে স্বাধীনতা পুরস্কারসংক্রান্ত নির্দেশনাবলি সংশোধন করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার পর অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলে অন্তত ২৫ বছর পর পুনরায় একই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে রবিবার সংশোধনী প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার প্রদানের জন্য বিবেচনা করা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার প্রাপ্তির পর অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলে অন্যূন ২৫ বছর পর ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা যাবে”।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম ঘিরে আলোচনার পর নতুন সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের মনোনীত তালিকায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জানা যায়, তিনি এর আগে ১৯৭৭ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ কারণে সরকার নির্দেশনাবলি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
সরকার চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানকারী আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) ও এ কে এম হানিফ, সংগীতে বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় মো. সাইদুল হক, শিক্ষাক্ষেত্রে মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার।
স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। পুরস্কারের সঙ্গে থাকে ৫ লাখ টাকা নগদ, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র। এটি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।