প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে সোমবার প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশে তামাক ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে গৃহীত না হলে তামাকজনিত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে সোমবার প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাস করা হবে।
তিনি জানান, আইনটি বাস্তবায়নে তথ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, যা মোট প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় ৩৫ শতাংশ। তামাকের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮ জনের মৃত্যু হয় এবং বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ তামাক ব্যবহার।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই এবং জনস্বার্থে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন।
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা দরকার।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা-এর সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাস করা উচিত।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক ক্যান্সার আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বাতিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ এবং তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।