বাসস
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৯ পিএম
আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ফাইল ছবি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা পুলিশের প্রধান কাজ। অপরাধী যত বড়ই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সোমবার আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছে আইজিপি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। সে কারণে কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত অপরাধ বন্ধে পুলিশ কাজ করছে। চাঞ্চল্যকর কোন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
“আমরা সিআইডিকে আরো আধুনিকায়নের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর”।
সৎ, দক্ষ ও মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো ধরনের অনিয়ম ও অসৎ কাজ সহ্য করা হবে না।
“বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। দেশের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকট মুহূর্তে এই বাহিনীর সদস্যরা সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ” বলেন আইজিপি।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার”।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, “চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।
“ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ব্লক রেইড দিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য প্রতিটি জেলার সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। একজন সার্কেল অফিসার ওই থানার সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারেন”।