জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৩ পিএম
ঢাকার ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেলে নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন। শেরাটন মোড়, শাহবাগে। ছবি: প্রথম আলো
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে বাড়তি চাহিদা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার ওপর সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির জারি করা শুক্রবারের এক নির্দেশনায় জানায়, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নিতে পারবে। পিকআপ বা লোকাল বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাড়তি চাহিদা
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কখনও কখনও জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করে বিপিসি।
সংস্থাটি আরও জানায়, কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আতঙ্ক কমাতে তেল সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানির চালান দেশে আনা হচ্ছে।
পাশাপাশি প্রধান স্থাপনা থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। শিগগিরই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ফিলিং স্টেশনে ভিড়, রসিদ দেখিয়ে তেল নেওয়ার নির্দেশ
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাদের তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করা রসিদ নিতে হবে। পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রসিদও দেখাতে হবে। ডিলারদেরও বরাদ্দ ও ক্রয় রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঢাকার পরিবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এ সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজন চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
শাহবাগে প্রায় ৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেন উবারচালক নাজমুল হাসান। তিনি জানান, প্রতিদিন তার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে এ সময়ের মধ্যে দুই থেকে তিনটি ভাড়া হাতছাড়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও।
পরিস্থিতির জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কারণ নেই।