× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্যাস সংকটে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৭ পিএম

গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড। ছবি: বাসস

গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড। ছবি: বাসস

দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হয়, তার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার এবং ওমান থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর সম্প্রতি ইরানের ড্রোন হামলায় কাতার এনার্জি স্থগিত করে দিয়েছে এলএনজি উৎপাদন। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহে। কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন স্থগিত রাখায় সংকট এড়াতে গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

জিটিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ট্রান্সমিশন বিভাগ) শফিউদ্দিন মো. ফরহাদ ওমর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগে আমরা প্রতিদিন ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করতাম। ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতার এনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত করে। এ পরিস্থিতিতে সংকট এড়াতে আমরা ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম সরবরাহ করছি। এখন প্রতিদিন ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করতে পারছি।’

আগামীতে এলএনজি কার্গো আসা কমে গেলে সংকট এড়াতে সরবরাহ আরও কমিয়ে আনার কথাও জানান তিনি। 

এদিকে এলএনজি সরবরাহের এই ঘাটতি প্রভাব ফেলছে দেশের শিল্প-কারখানার উৎপাদনে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। গ্যাস সংকটে গত বুধবার বিকাল থেকে কারখানা দুটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এভাবে সরবরাহ কমে গেলে আগামীতে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন শিল্প-কারখানা মালিকরা। কারখানা মালিকরা বলছেন, আমদানি করা এলএনজি দিয়েই চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানাগুলোর গ্যাসের চাহিদা মেটানো হয়। তাই এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে চট্টগ্রামের অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু সার কারখানা নয়, এলএনজি সরবরাহ কমে গেলেÑ রড, সিমেন্ট, সিরামিকসহ ভারী কারখানার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোরও উৎপাদন ব্যাহত হবে।’ 

বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের কারখানাগুলো এলএনজি-নির্ভর। এখানের কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ হয় আমদানি করা এলএনজির মাধ্যমে। তাই যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে চট্টগ্রামে পোশাক কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হবে।’ 

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ১২শর অধিক শিল্প গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে বিএসআরএম, জিপিএইচ ইস্পাতসহ বড় কারখানা রয়েছে ১৫ থেকে ২০টি। এর বাইরে সিইউএফএল, কাফকো, ডিএপি সার কারখানা ও রাউজান ও শিকলবাহায় দুটি করে চারটি পাওয়ার প্লান্ট আছে। সরকারি এই সাতটি প্রতিষ্ঠানসহ সব শিল্প-কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকারি সাতটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে স্থাপন করা দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই গ্রাহকদের এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জিটিসিএল এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় এখন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড চাহিদা মতো গ্যাস পাচ্ছে না। তাই তারা শিল্প গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত বুধবার বন্ধ হয়ে গেছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড।

চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের উৎপাদন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কেজিডিসিএল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে আমরা বুধবার বেলা ৩টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখেছি। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে।’

কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমগীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার থেকে কারখানার বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ‍ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর বুধবার বিকাল থেকে আমাদের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর আমাদের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। সর্বশেষ কবে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেটি কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।’

এদিকে গ্যাস সংকটে দুটি সার কারখানায় ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য শিল্প-কারখানা মালিকদের মধ্যে। চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পেলে তাদের কারখানায়ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কারখানা মালিকরা। 

চট্টগ্রামের অন্যতম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনছে। কারণ এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বে জ্বালানির সংকট তৈরি করবে। সরকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। সরকার যদি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারে তাহলে অধিকাংশ শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হবে।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন একেএস স্টিল মিলের উপমহাব্যবস্থাপক ইমরুল কাদের ভূঁইয়া। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ শিল্প-কারখানা এখন এলএনজি-নির্ভর। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমরা এখন উদ্বেগের মধ্যে আছি। কারণ পর্যাপ্ত এলএনজি সরবরাহ না পেলে কোনোভাবেই উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব নয়। শুধু আমরাই নয়, অন্যান্য শিল্প-কারখানায়ও একই অবস্থা তৈরি হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা