প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:৪১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ২ মার্চ প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন। ছবি: এপি
ইরানের পক্ষ থেকে চালানো ড্রোনের বিশাল বহর বা ‘ব্যারাজ’ পুরোপুরি ধ্বংস করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নেই বলে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। গত মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের নেতৃত্বে
অনুষ্ঠিত ওই গোপন বৈঠকে জানানো হয়, ইরান বর্তমানে হাজার হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে’ বা আত্মঘাতী
ড্রোন মোতায়েন করেছে, যার অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও একসঙ্গে ধেয়ে আসা সবকটি
ধ্বংস করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং এগুলো বেশ নিচ দিয়ে ধীরগতিতে উড়ে
আসে। ফলে প্রচলিত রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া এসব ড্রোনের পক্ষে
সহজ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, আকাশপথে ড্রোন ঠেকানোর চেয়ে এখন
ড্রোন ও মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো সরাসরি ধ্বংস করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর একটি বড় কারণ হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অত্যধিক খরচ।
একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েকদিন যুক্তরাষ্ট্রের
প্রতিদিন প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। বর্তমানে এই খরচ ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও,
প্যাট্রিয়ট ও থাড-এর মতো অত্যন্ত দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো ব্যবহারের ফলে মার্কিন
অস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অস্ত্রের মজুদ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর মধ্যে
গত সোমবার রাতে, ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আক্রমণের হার
অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরে রাখতে পারে; “মাঝারি ও উচ্চতর মাঝারি গ্রেড” যুদ্ধাস্ত্রের
মজুত “কার্যত সীমাহীন”। তবুও, তিনি স্বীকার করেছেন, “সর্বোচ্চ প্রান্তে” অস্ত্র “আমরা
যেখানে রাখতে চাই সেখানে নেই”।
এর জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার
এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের প্রশাসন (বাইডেন প্রশাসন) অযোগ্যতার
পরিচয় দিয়ে ইউক্রেনে অনেক উন্নত মানের অস্ত্র পাঠিয়ে দিয়েছে, যা মজুদে প্রভাব ফেলেছে।
তবে পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন আশ্বস্ত করে
বলেছেন, “আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় নিখুঁত অস্ত্র
আমাদের কাছে পর্যাপ্ত রয়েছে।” যদিও নিরাপত্তার খাতিরে অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ
প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।