প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৪ পিএম
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বুধবার সকাল ১০টায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে সময়োপযোগী, আধুনিক এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক করে গড়ে তুলতে হবে।
এ লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং কারিকুলাম-সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বুধবার সকাল ১০টায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কেপিআই (কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটরস) প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার সমন্বয় এবং বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা না করে সৃজনশীলতা ও উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, কারণ এখান থেকেই মানবসম্পদ তৈরি হয়। প্রায় ১৮ কোটি জনগণের দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা একটি বড় দায়িত্ব। এই বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষতায় রূপান্তর করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কারিগরি, ভকেশনাল ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক পাঠদানের পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার যথাযথ মূল্যায়ন ও সংস্কার প্রয়োজন।
এহছানুল হক মিলন জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পেলেও বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। এ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিসরে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন উদ্যম, উদ্দীপনা ও দ্রুতগতিতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব লক্ষ্য, সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি সকলকে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।