মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ
দীপক দেব, ঢাকা ও হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৪ এএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৪ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ছবি: রয়টার্স
ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের ঢেউ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের আমদানি-নির্ভর জ্বালানি খাতেও নতুন করে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী, পাশাপাশি ড্রোন হামলা চলছে সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায়; এই পরিস্থিতি জ্বালানি সংকটকে ঘনীভূত করেছে।
ইরানের হামলার মুখে কাতারের পক্ষ থেকে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পট মার্কেট থেকে জরুরিভিত্তিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের দেনাসমেত দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকারের জ্বালানিঝুঁকি আরও বাড়ল। কারণ এদেশের জ্বালানি ব্যবস্থা মূলত আমদানি-নির্ভর হওয়ার কারণে এর ফলে এখানে তীব্র গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং এলপিজির অস্বাভাবিক দর বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে এবং লোডশেডিংয়ের আশঙ্কাও আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই চলমান সংকট সামাল দেওয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্যেই নতুন সরকারকে যুদ্ধজনিত নতুন এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। গ্রীষ্মে এই চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন-সক্ষমতা আছে ২৮ হাজার মেগাওয়াট; তবে জ্বালানির (গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস তেল) অভাবে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
এলএনজি সংকটে উদ্বিগ্ন বিশ্লেষকরা
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে আসছে ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এর বড় অংশই আসে কাতার ও ওমান থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে। গ্রীষ্মকালকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ছিল দৈনিক ১ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি এলএনজি আমদানির। কিন্তু সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস, লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং আবাসিক লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত সোমবার কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি জানিয়েছে, সেখানকার দুটি স্থাপনা মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। বিশ্লেষকদের মতে, কাতার থেকে ব্যাপক এলএনজি আমদানি-নির্ভর এশিয়ার দেশগুলোÑ বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানÑ এই বিঘ্নের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে। দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এলএনজি হিস্যা দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বড় সরবরাহকারী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কাতার এনার্জি। দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হয় তার ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে এ সংস্থা। দীর্ঘমেয়াদে কাতার এনার্জির এলএনজি উৎপাদন-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা এখানকার গ্যাস খাত থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি-সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, ‘এ বছর ১১৫টি কার্গো (জাহাজ) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা।’ অন্যদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মার্চে ১১টি কার্গো আসার কথা রয়েছে, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্গো এখন হরমুজ প্রণালীর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার হচ্ছে। কোনো একটি কার্গো সময়মতো না পৌঁছলেই দেশের চলমান গ্যাস সংকট তীব্র হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি বাজারেও নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দরের চেয়ে প্রায় ৫০০ টাকা বেশিতে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। যা সামনের দিনগুলোতে আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি পণ্যের আমদানি মূল্য তাৎক্ষণিক পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে কমপক্ষে চার কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যদিও চলতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার কোনো পূর্বপরিকল্পনা সরকারের ছিল না।
সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা এবং কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধ রাখায় ওই দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যে এলএনজি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকারপ্রধানকে আরও জানানো হয়, ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই মাসে দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি আরও দুই কার্গো এলএনজি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পুরো মাসের চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে আট কার্গো এলএনজি প্রয়োজন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নির্দেশনার পর পেট্রোবাংলা অতি দ্রুত দুই কার্গো এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে আমদানির জন্য টেন্ডার আহ্বান করবে। বাকি দুই কার্গোর টেন্ডার আহ্বান করা হবে আরও কয়েকদিন পর।
ভাবনায় ফেলেছে হরমুজ প্রণালী
বিশ্বের মোট আমদানি হওয়া তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ করা হয় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু এই প্রণালী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকে সেখানে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীতে এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমেছে ৮৬ শতাংশ। উভয় প্রান্তে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকে আছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল আমদানির মাত্র ২০ শতাংশের মতো অপরিশোধিত অবস্থায়, যা হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজি মজুদ রয়েছে তাতে অচিরেই সংকটের শঙ্কা নেই। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর তেমন হলে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির সকল সূচকেই পড়বে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলা পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনন্স) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এলএনজি আমদানিতে প্রভাব পড়বে। এর ফলে আমাদের সাপ্লাই কমে যাবে। আমাদের বিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন এমনকি বাসাবাড়ির জ্বালানিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে আমরা সার্বক্ষণিক তার ওপর নজর রাখছি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি নজরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বাড়ছে তেলের দাম
ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলের ওপর হুমকির পর থেকেই বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা তিন দিন ধরে বাড়ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭৯ ডলার ৪৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি এবং দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ততই প্রবল হবে।
ক্রুড অয়েল আমদানিতে অনিশ্চয়তা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি বন্দরে আটকে আছে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরপিএলসি) জন্য আমদানি করা ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ। সহসা যুদ্ধ না থামলে দেশে ক্রুড অয়েল আমদানিতে তৈরি হবে অনিশ্চয়তা। এতে ক্রুড অয়েলের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইআরপিএলসি তেল পরিশোধন কার্যক্রম।
ইআরপিএলসি সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত এরাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং দুবাই থেকে আমদানি করা মারবান ক্রুড অয়েল প্রসেস করে ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির বছরে ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করার সক্ষমতা রয়েছে। এই হিসাবে কোনো মাসে এক লাখ টন, কোনো মাসে দেড় লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। একটি জাহাজের ক্রুড অয়েল শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি জাহাজ নিয়ে আসা হয়। তাই ইআরপিএলসিতে খুব বেশি ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে না। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যদি চলতি মাসে সিডিউল করা ক্রুড অয়েল আমদানি করা না যায়, তাহলে ক্রুড অয়েলের অভাবে ইআরপিএলসিতে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের বিষয়টি তদারকি করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য একটি জাহাজে করে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়েছিল। এরপর চলতি মাসে দুটি জাহাজে করে ক্রুড অয়েল আমাদনি সিডিউল ছিল। এর মধ্যে একটি জাহাজ ক্রুড অয়েল নিয়ে আজকে সৌদি আরবের বন্দর থেকে রওনা হওয়ার কথা ছিল। জাহাজটি ক্রুড অয়েল লোড করার পর এখন হরমুজ প্রণালীতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আর আসতে পারছে না। অপর জাহাজটির তেল নিয়ে ২০ মার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করার সিডিউল রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ক্রুড আমদানিতে ক্রাইসিস তৈরি হবে।’
আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরপিএলসি) কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির অ্যসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো. মনজেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ক্রুড অয়েল আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সেটি এখনই ইআরপিএলসির তেল পরিশোধন কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না। ইআরপিএলসিতে এই মুহূর্তে এক মাস পরিশোধন কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্রুড অয়েল মজুদ আছে। এই সময়ের মধ্যে যদি ক্রুড অয়েল আমদানি করা সম্ভব না হয়, তাহলে তখন রিফাইনারি বন্ধ রাখতে হবে।’