বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০০:৩২ এএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভবন। ছবি: বাসস
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দুই কমিশনার—মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে তারা নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হলে কমিশন কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়বে-এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগকে ঘিরে সাম্প্রতিক এক বিতর্ক বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টার বাসভবনে আয়োজিত ইফতার ও নৈশভোজে তিনি অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি পদচ্যুত গভর্নরও উপস্থিত ছিলেন।
সাংবিধানিক ও স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে আসে। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
দুদক একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে এর নেতৃত্বের আচরণ ও অবস্থান সবসময়ই জনআস্থা ও নিরপেক্ষতার মানদণ্ডে বিচারিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিতর্ক কমিশনের ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
বর্তমানে দুদকের অধীনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্তও অগ্রগতির পর্যায়ে আছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ কমিশনের কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাবেক এক আইন কর্মকর্তা বলেন, “নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনুমোদন ও নীতিগত দিকনির্দেশনায় জটিলতা দেখা দিতে পারে”। তবে কমিশনের প্রশাসনিক কাঠামো সচল থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র বলছে, সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী, দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। শূন্যপদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দুদকের নেতৃত্ব পুনর্গঠন একটি বড় বার্তা বহন করবে-বিশেষত প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে।
সব মিলিয়ে, মেয়াদপূর্তির আগেই দুদকের শীর্ষ নেতৃত্বের পদত্যাগ প্রশাসনিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর নতুন নিয়োগ এবং চলমান তদন্তগুলোর গতি-প্রকৃতির দিকে।