× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোটের আগে ‘বিতর্কিত’ পদায়ন, ৫ ডিসি প্রত্যাহার

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ০৫:১৩ এএম

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৮ এএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদায়নকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, নির্বাচনের পর তা নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করা হয়েছিল, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার একযোগে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোণা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারপূর্বক পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোণার মো. সাইফুর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। এদের মধ্যে দুজন ইকনোমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা না হলেও একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে তাদের পদায়ন ও নির্বাচন-পরবর্তী ফলাফল নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।

নির্বাচনের আগে পদায়ন নিয়ে আপত্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক পদায়ন নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে মাঠ প্রশাসনে দলনিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা এসব আপত্তি আমলে নেননি। নিয়োগ কমিটির একজন সিনিয়র সচিবও কয়েকটি জেলায় নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন যে, এসব কর্মকর্তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এবং তা নির্বাচনে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান তার আপত্তি গ্রহণ করেননি।

একজন সাবেক সচিব বলেন, 'নির্বাচনের আগে ডিসি-এসপি বদলি সব সময়ই স্পর্শকাতর বিষয়। এ ক্ষেত্রে সামান্য বিতর্ক থাকলেও সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল।'

'রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার' অভিযোগ প্রশাসনের

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় নেতা বা কর্মী ছিলেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, নির্বাচনকালে তাদের দায়িত্বে রাখা হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই প্রতিবেদনও গুরুত্ব পায়নি। জনপ্রশাসন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা 'রহস্যজনক' ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও সামনে আসে। কিন্তু সে সময় দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার ইনপুট যদি উপেক্ষা করা হয়, তা হলে সেটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন।

ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন?

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা একটি জেলা নিয়ে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যে জেলায় পদায়ন করা হয়েছিল, সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, একটি আসন বাদে অন্যসব আসনেও ওই দলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। অথচ অতীত ইতিহাসে এসব এলাকায় সেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জয়ের নজির নেই। নির্বাচনী ফলাফলের এই পরিবর্তনকে 'অস্বাভাবিক' বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কথা বলেননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'প্রত্যাহার মানেই দোষ প্রমাণ নয়। অভিযোগ উঠেছে, তাই প্রশাসনিকভাবে তাদের সরানো হয়েছে।'

কেন এখন এই সিদ্ধান্ত প্রশ্ন উঠেছে, যদি অভিযোগ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন আগেই ছিল, তাহলে নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ নেওয়া হলো না কেন? আর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর হঠাৎ একযোগে পাঁচ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করা হলো কেন?

সূত্র বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময় রাজনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ফলেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে, নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কি না।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'এটি একধরনের 'ড্যামেজ কন্ট্রোল'। নির্বাচনের আগে সিদ্ধান্ত বদলানো হলে তা স্বীকারোক্তির মতো দেখাতে পারত। এখন নির্বাচন শেষ, তাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।'

সামনে আরও প্রত্যাহার হবে

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকজন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা