প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৬ পিএম
ফাইল ফটো
নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ)।
জেএনএনপিএফ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ উদ্বেগ জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গুরুতরভাবে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং ময়মনসিংহে একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও গভীর উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়। কুমিল্লা, গাজীপুর, নাটোর, পাবনা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় বসতবাড়িতে হামলা ও সহিংসতার কারণে নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
জেএনএনপিএফ মনে করে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পছন্দের কারণে কোনো নারী বা শিশু জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে বড় অন্তরায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পূর্বশর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভয়মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, রাষ্ট্র ও সরকার এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং দায়ীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।