প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ফাইল ছবি
শিক্ষাকে এখন থেকে আর কেবল ব্যয়ের খাত হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রধান বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাকে আর খরচের খাত হিসেবে দেখবে না; শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা, এবং জাতি-গঠনের প্রধান প্রকল্প।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই জানি, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম শর্ত অর্থায়ন। গত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশের আশেপাশে থেকেছে, এবং জিডিপির অনুপাতে তা দেড়-দুই শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে এটা একটি কাঠামোগত সীমা।
“কিন্তু আমাদের সরকারের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার; ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া’ এটা আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বলে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫-২০ শতাংশ এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হবে”।
তিনি বলেন, “উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন শেষ ত্রৈমাসিকের হুড়োহুড়ি বন্ধ করতেই হবে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না খরচের গুণগত মান বদলাতে হবে। আমরা স্বীকার করছি, উন্নয়ন বাজেটের একটা বড় অংশ বছরের শেষে হঠাৎ খরচ হয়। এর ফলে বই, নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ-সবকিছুই ‘স্কুল ক্যালেন্ডার’ মিস করে”।
“সরকার উন্নয়ন ব্যয়কে আবার অগ্রাধিকার দিবে” বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব, ডিজিটাল কনটেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা, স্কুল অবকাঠামো-বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে”।
শিক্ষা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পদ্ধতিতে যেতে চাই। আমাদের ইশতেহারে আছে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’। ফলে আমরা এটাকে ‘গ্যাজেট প্রজেক্ট’ বানাবো না। আমরা এটাকে বানাবো শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম”।
বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক চাহিদা ও শ্রমবাজারে সহায়ক হবে এমন একটি ভাষা আমরা নির্বাচন করবো। আমাদের স্কুলগুলোকে বানাতে হবে ইনোভেশন স্পেস।
“আমরা মাধ্যমিক থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, আমাদের লক্ষ্যে হবে শুধু সনদ নয় বরং সক্ষমতা থাকবে”।