প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০০ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:০৬ পিএম
খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে বইছে উৎসবের আনন্দধারা। গির্জায় গির্জায় বর্ণিল সাজে সেজেছে ক্রিসমাস ট্রি। উৎসবমুখরে মেতেছে গির্জাগুলো। বহুবর্ণ বাতি, ফুল, রঙিন বেলুন, নকশা করা কাগজ ও জরি ব্যবহার করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্থাপনা। এসব আয়োজন ২৫ ডিসেম্বর ঘিরে।
রবিবার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট ২৫ ডিসেম্বর বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচারের মাধ্যমে মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতেই প্রভু যিশুর পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিকে ‘শুভ বড়দিন’ হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্য ও আচারাদি, আনন্দ-উৎসব এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ‘শুভ বড়দিন’ উদযাপন করবেন। বড়দিনের প্রাক্কালে শনিবার রাতে বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকাল থেকে শুরু হবে বড়দিনের প্রার্থনা।
এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গির্জাগুলোকে সাজানো হয়েছে নতুন আঙ্গিকে। বর্ণিল আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়েছে বিভিন্ন গির্জা এবং রাজধানীর তারকা হেটেলগুলো। হোটেলের ভেতরে কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও শান্তাক্লজ।
বড়দিন উপলক্ষে রবিবার সরকারি ছুটি। দিনটিতে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি করা হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। এ ছাড়া দেশের অনেক অঞ্চলে আয়োজন করা হয়েছে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর।
বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ সবার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাগতিক সুখের পরিবর্তে যিশুখ্রিস্ট ত্যাগ, সংযম ও দানের মাধ্যমে পারমার্থিক সুখ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যিশুখ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণীয়।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-একথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, আবহমানকাল ধরে এদেশে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণিপেশা, সম্প্রদায়ের জনগণের উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আওয়ামী লীগ সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।