× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু

এবার ঋণ শোধের পালা

দীপক দেব

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১০ এএম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছরের মাথায় এসে ফের যাত্রা শুরু হলো রাজনৈতিক সরকারের। বিগত ১৭ বছর গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এর মধ্য দিয়েই প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। এই যাত্রায় নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। আর তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ

রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত, এরপর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করান। এরপর ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী দিনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের এই মন্ত্রিপরিষদ কেমন করে তা দেখার অপেক্ষায় পুরো জাতি। কারও কারও ভাষ্যÑ বিপুল জনপ্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়ে ক্ষমতার আসনে বসা নবনির্বাচিত সরকারের সামনে এবার জনগণের ঋণ শোধের পালা।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৫৮ মিনিটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। এর কয়েক মিনিট পর বিকাল ৪টা ৪ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন তারেক রহমান। সবশেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (তিনবার) প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।

নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া নেতাদের শপথ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সবশেষে প্রতিমন্ত্রীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তাদের শপথ এবং শপথে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের সঙ্গী হয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান তার সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপি জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন। অনেকেই প্রথমবার এমপি হয়েই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মেয়ে দীনা আফরোজকে নিয়ে শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকেও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির সংসদ সদস্যরা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এর আগে শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি। তিনি বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে, কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে, তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে। তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে সহকর্মীদের জানান। শপথগ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

নতুন সরকারের কাছে যেসব প্রত্যাশা : বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ সরকারের মূল্যায়ন হবে ৬ মাস বা এক বছর পর। তাদের অর্জন কতটা হয়েছে, সাফল্য ও ব্যর্থতা কতটা? মানুষ ‍দুবেলা পেটভরে ভাত খেতে চায়, শান্তিতে ঘুমাতে চায়। সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শহরে-গ্রামে মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। অর্থাৎ প্রথম কাজ আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন। দ্বিতীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে হবে। দেশে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি, এটিকে অবশ্যই কমাতে হবে। মুনাফাখোর, কালোবাজারিদের কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি আসবে। এসব করতে পারলে সরকারের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অভিনন্দন ও প্রত্যাশা জানিয়েছেন নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ। নতুন মন্ত্রিসভা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেÑ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, তাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটানো, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোÑ সেগুলো তারা সফলভাবে মোকাবিলা করবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা