× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা...

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৯ পিএম

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দিয়ে মঙ্গলবার বিদায় নিতে চলেছে ১৮ মাস বয়সী অন্তর্বর্তী সরকার। যাত্রা শুরু হচ্ছে নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের সরকারব্যবস্থাকে একটি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের দুয়ার উন্মুক্ত করা। তাদের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হতে চলেছে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার কাজ শুরু এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রণীত হয়েছে জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কারের স্মারক। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের একাধিক উপদেষ্টা তাদের সফল হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রম ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। এই অল্প সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একদিকে নানা ধরনের আন্দোলনের মোকাবিলা করতে হয়েছে, অন্যদিকে বিধ্বস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে নির্বাচন ও গণভোটের পথে হাঁটতে হয়েছে। এক কথায়, এই পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। সেই সরকার আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে আজ সরকার গঠন করতে চলেছে। আজ সকালে সংসদ সদস্যরা ও বিকাল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ করবেন। এই শপথের মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সরকারের পথচলা। অবসান ঘটবে অন্তর্বর্তী সরকারের। কিন্তু এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার পতাকা উড়িয়েছে, তা নিয়ে এগোতে হবে নতুন সরকারকে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে গেলে, ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা/তোমায় আমায় মিলে এমনি বহে ধারা’- যে ধারায় পথ চলবে আগামী দিনের বাংলাদেশ।

উপদেষ্টাদের সফলতার গল্প

বিদায়ের আগে গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফেসবুক পেজে সরকারের দেড় বছরের বিভিন্ন সংস্কারের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই সরকার ‘বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে, বাস্তবসম্মত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’ 

পোস্টে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধনী) প্রণয়ন এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য জরুরি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এই পোস্টে। বলা হয়েছে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে প্রায় ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার ৩৭% থেকে ২০% এ নামানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।

ব্যাংকিং তদারকি জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে এই পেজে বলা হয়েছে, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে তথ্য প্রকাশে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কারের অংশ হিসেবে ১,২০০-রও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’বা এসআইএফ নাম দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপের অবসান হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ হওয়া গণমাধ্যম পুনরায় চালুর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও ফিরেছে।

সরকার ৯০ শতাংশ সফল : প্রেস সচিব

এ সরকার তাদের কার্যক্রমে কতটা সফল তা প্রতিদিনের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাইলে গত রবিবার তিনি বলেন, ‘সরকারের সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ঠিক করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সংস্কার কমিশন ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সংস্কার, বিদ্যুৎ খাতে অর্থ অপচয় রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি, ফরেন রিজার্ভ বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ, খাদ্য মজুদে অগ্রগতি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ এগ্রিমেন্ট ও জাপানের ইপিএ ইত্যাদি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্বাচন করা।’ তিনি সফলতা প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাস এই সরকারকে যতটা নিবিড়ভাবে দেখেছি, যে ধরনের আমলাতন্ত্র, যে ভঙ্গুর অর্থনীতি আমরা পেয়েছি, যে ধরনের প্রতিষ্ঠান, পুরো প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর ছিলÑ সেই বিচারে আপনি যদি এই সরকারের কাজগুলো দেখেন... আমি বলব, আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে এরা ৯০ শতাংশ সফল।’

সাত উপদেষ্টার নিজস্ব মূল্যায়ন

এদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাতজন উপদেষ্টা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের গত দেড় বছরের কাজের বিবরণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সফল হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যেই টেকসই উৎপাদন, সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থরক্ষায় একাধিক আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে। মৎস্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। আমাদের কাজ যথাযথভাবে পালন করেছি। আমার কাজে সফল হয়েছি।’ 

ভূমি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, তার নেতৃত্বে দুটি মন্ত্রণালয়ই সফল ছিল। ভূমি মন্ত্রণালয় ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। ঘরে বসেই খতিয়ান, নকশা ও ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারেন। জমি রেজিস্ট্রি করতে যে কষ্টের মধ্যে পড়তে হতো তা থেকে মানুষ রেহাই পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ খাদ্য মজুদ রেখে যাচ্ছি। কেননা শুরুতেই আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ খাদ্য মজুদ রেখে যাব। আমরা সেটাই করেছি। এখন চাল ও গম মিলে ২২ লাখ টন খাদ্য রেখে যাচ্ছি।’ 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ একই দিন সংবাদ সম্মেলনে দেড় বছরের কাজের মূল্যায়ন করে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ বা ৮০ দিয়ে বলেন, ‘অনেক উদ্যোগ শুরু করা হলেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই জনগণের স্বার্থে কাজ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।’

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার দেড় বছরের কাজের চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ন্যাশনাল এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক চিহ্নিত ও ব্যবহার সীমিতকরণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন, জাতীয় বননীতি, ২০২৫ প্রণয়ন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়নসহ বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তার মেয়াদে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশমন বিষয়ে মোট ৬৯টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষকদের জন্য ২০০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, ৩ উপকূলীয় জেলায় সুপেয় পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

নতুন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ। তারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন, জুলাই আগস্ট গণহত্যার বিচার শুরু ও কয়েকটির রায় প্রদান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে একাধিক অধ্যাদেশ, কৃষি খাতে ২৫ বছরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়কে এ সরকারের সাফল্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। পাশাপাশি মব সংস্কৃতি বন্ধে, মূল্যস্ফীতি কমাতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা-বিফলতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. শামসুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার মূলত জনগণের প্রত্যাশার কারণে দায়িত্ব নিয়েছিল। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নিয়েই ড. ইউনূস বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি কমিশন গঠন করেন। এ কমিশন তাদের রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দিয়েছে। সেই আলোকে কিছু কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে প্রশাসনিক থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনী, সংসদীয় ব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা অন্যতম।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে বসিয়েছে। তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সেখানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে সকল দল একমত হয়েছে। তবে পিআর পদ্ধতি ভোটের অনুপাত না সংসদ সদস্যদের অনুপাতে হবে তা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি।’

সরকারের বড় সাফল্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াÑ এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ও প্রাপ্তি হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আনতে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। কেননা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা দেখে তারা কোন খাতে কী শর্তে বিনিয়োগ করবে। সেখানে লাভ-লোকসানের কী অবস্থা দাঁড়াবে। এ সরকার দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ দিতে পারেনি। বরং এ সরকার বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে বন্দর চুক্তি, এলএনজি কেনা চুক্তিসহ বেশকিছু চুক্তির তৎপরতা চালিয়েছে, যা দেশের জন্য খুবই সমস্যাজনক। এসব চুক্তি জনসম্মতি ছাড়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যতীত তাড়াহুড়া করে করা হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে তাদের এসব তৎপরতা বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় নয়, বরং স্বার্থের পরিপন্থী।’

অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পর বড় বড় ঋণখেলাপি, সম্পদ পাচারকারীরা কিছুদিনের জন্য অনুপস্থিত ছিল। এতে সরকারের জন্য সুশাসনের বড় একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেটির সদ্ব্যবহার তারা করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ, ঋণখেলাপিদের ধরা এসব ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হয়নি। তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সুফল সামনে পেতে পারি।’ 

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল্যায়ন করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে দেশে কৃষি খাতে উৎপাদনের গ্রোথ ছিল তিন থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১.৭৯ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্য আমদানি বেড়েছে। খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সংকট, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারাসহ অনেক খাতেই সরকার সফল হতে পারেনি। উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রেও সরকার পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, বন্ধ সার কারখানাগুলো চালু না করে আমদানির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এতে সারের মূল্য বেড়েছে, যা বোরো ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বাজার ছিল অস্থির। অথচ তারা এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। তবে কৃষি খাতে ভালো কিছু উদ্যোগও রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে মজুদের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা