× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রমজানের আগেই গরম নিত্যপণ্যের বাজার

কাউসার আহমেদ ঢাকা, তারাচরন টিপু চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৩ এএম

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পবিত্র রমজান শুরু হতে আর দেরি নেই। এই রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে টানা চার দিন ছুটিতে সারা দেশে পণ্য-পরিবহন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ফলে বিভিন্ন জেলায় রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে গত সপ্তাহের তুলনায় সেসব পণ্যে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। 

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছর জাহিদি খেজুর প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৫ শতাংশ। এদিকে বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এ সময় কাঁচামরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে গত বছরের তুলনায় ছোলা, চিনি, সয়াবিন তেল ও শসার দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কয়েক দিন বন্ধ থাকায় সরবরাহ কম ছিল। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। 

খাতুনগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী সেলিম ওমরাহ বলেন, মটরের ডালে ৫ টাকা, চনার ডালে ৪ টাকা করে বেড়েছে। যেখানে চনার ডালের দাম ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজারের গৃহিণী সায়রা বেগম বলেছেন, বছরে একটা মাস দাম বেশি হলেও কিনেই তো খেতে হবে। সামনে আবার ঈদের বাজারে সবকিছুর অতিরিক্ত দাম পরিবারের ওপর ফেলবে বাড়তি চাপ। এখনই ছেলে বায়না ধরে আছে ঈদে কী কী কিনে দিতে হবে তার। 

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে দাম এখনও কিছুটা কম, তবে রমজান শুরু হলে দাম আরও বাড়তে পারে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানিকৃত ছোলা খালাস হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৭ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৯ টন। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে ৭০ হাজার ৩৯৮ টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের অ্যাংকরে অবস্থানরত দুটি জাহাজ থেকে ৬৬ হাজার টন ছোলা খালাসরত। পাশাপাশি চারটি জাহাজ থেকে মসুর ডাল খালাস করা হচ্ছে। 

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানিকৃত মসুর ডাল খালাস হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭৬ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৯ টন। এতে বছরের একই সময়ে ৪৭ হাজার ১২৩ টন কম আমদানি হলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জাহাজ থেকে একযোগে মসুর ডাল খালাস চলছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৬ টন মটর আমদানি হয়েছে। ভারত, কানাডার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে মটর আমদানি হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৫ টন। গত বছরের তুলনায় একই সময়ে ১২ হাজার ৪০১ টন মটর বেশি আমদানি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ফ্রেশ খেজুর আমদানি হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৩১ টন। গত অর্থবছরে একই সময়ে হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হাজার ৯৪৫ টন বেশি। 

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৯০-৯৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রোজার সময় বিক্রি হয় চাহিদার ৭০ শতাংশ খেজুর। বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে জাহিদি খেজুর; কেজি ২৮০ টাকা। যার দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০, কালমি ৬০০-৭০০; সুক্কারি ৭০০-৮০০, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ফল বিক্রেতা রাকিব মুন্সি জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বাড়ায় খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে যে অস্থিরতা চলছে, সেটার কারণেও দাম বেড়েছে। 

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলাইমান বাদশা বলেন, সব পণ্যের ওপর ৩ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়েছে। এর কারণ চাহিদা অনুযায়ী যে পণ্য আসার কথা, সেগুলো বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতির জন্য আসতে পারছে না। চাহিদা অনুযায়ী আমরা পণ্য কম দিতে পারছি। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬১৮ টন, পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ২ হাজার ৮৭৭ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েল মিলে ২৫ হাজার টন বেশি আমদানি হয়। বর্তমানে ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৬ টন অপরিশোধিত সয়াবিন নিয়ে আসা পাঁচটি জাহাজ বন্দরের অ্যাংকরে খালাসরত।

রাজধানীর বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বোতলজাত ১৯০-১৯৫ লিটার, ৫ লিটার ৯২০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে সয়াবিন তেলের কেজি ৩ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৭৩ টাকা। কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে চিনি ৯৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিশোধিত মিলের চিনি আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭২ টন। গত বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ টন। গত বছরের তুলনায় এবার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টন বেশি আমদানি হয়েছে।

রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মতিঝিলে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবারের রমজানে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি রোধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানÑ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করে বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহসান হাবিব বরুন বলেন, বাংলাদেশে রমজান এলেই সিন্ডিকেট, মজুদদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। সরকারি নজরদারির অভাব ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে এসব অসাধু চক্র বেপরোয়া হয়ে ওঠে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা