বাসস
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩০ পিএম
ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেয়া শেষে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি : বাসস
আজকের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের দিনের শুভসূচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়ণের ট্রেনে উঠে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ঢাকার ইস্কাটনে অবস্থিত ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট দেয়া শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সিইসি এ কথা বলেন।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা ইনশাল্লাহ এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এসেছি। ভবিষ্যতেও কোনো চ্যালেঞ্জ এলে তা আমরা যথাযথভাবে মোকাবেলা করব। আমি অত্যন্ত আনন্দিত আজকে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়ণের ট্রেনে উঠে গেছে এবং বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাআল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।
তিনি বলেন, “আমি ওয়াদা করেছিলাম এই বলে যে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবো। আপনারা দেখেছেন এই কয়দিনে ঈদের দিনের মতো ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার মতো মানুষ ট্রেনে বাসে লঞ্চে গ্রামে গঞ্জে চলে গেছে ভোট দেওয়ার জন্য। দেশে ঈদের আমেজ চলছে । আমি আমার নিজের গ্রামে এবং বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি, গ্রামেগঞ্জে মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। তারা অনেকদিন পরে ভোটের যে একটা আমেজ সৃষ্টি হয়েছে, এখন যে তারা ভোট দিতে পারবে এই আনন্দ তাদেরও উদ্বেলিত করছে”।
তিনি আরও বলেন, “গতকাল বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছি এবং তারা আমাদের কাজ দেখে অত্যন্ত আনন্দিত। এবার প্রায় ১৭ লাখ লোক নির্বাচন কাজে নিয়োজিত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠনের সবাইকে প্রশিক্ষিত করে, ইলেকশন ওরিয়েন্টেড ট্রেনিং দিয়ে সবাইকে এই যে এক জায়গায় কাজে লাগানো হয়েছে - এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। আমার মনে হয় এর চাইতে বড় কো অর্ডিনেশন এর কাজ আর হতে পারে না”।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, “আমি একটা কথা বলেছিলাম যে, এদেশে কোনো পাতানো নির্বাচন আর হবে না। এই পাতানো নির্বাচনের ইতিহাস আমাদেরকে ভুলে যেতে হবে। এখানে এই কেন্দ্র দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে। ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে”।
নির্বাচন উপলক্ষে তার চাওয়া কি এ কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ৭৪ বছর বয়স, আমার এই বয়সে এসে আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নাই। আমরা চেয়েছিলাম জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে শেষ একটা অবদান রাখতে, জাতির জন্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চেয়েছিলাম, আল্লাহ তাআলা আমাকে সে দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এবং বাকিটা ইনশাল্লাহ সুন্দরভাবে সফলভাবে সমাপ্ত হবে এই আস্থা আমার আছে”।
বিভিন্ন স্থানে অল্প বিস্তর সমস্যা দেখা দিলে তার সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করা হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্যকে মোকাবেলার যে স্ট্র্যাটেজি নিয়েছি, সেটা ইনশাআল্লাহ সফল হবে। আপনারা দয়া করে সত্য তথ্যটা প্রচার করবেন, সংবাদ করার আগে তথ্যের সত্য মিথ্যা যাচাই করবেন।
“একটা সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য নাই, আমাদের কোনো প্রাধান্য নাই। আমি আজ সকালে টিভিতে দেখেছি গ্রামেগঞ্জে মহিলারা দল বেঁধে সকাল সকাল ভোট দিতে বেরিয়েছেন, যাদের বয়স কম তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে দলে দলে কেন্দ্রে আসছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা ফিরে আসবে”।