প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৮ পিএম
গুম সংক্রান্ত জাতিসংঘের শর্ত প্রত্যাহারের ফলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হলো। গ্রাফিক্স: বাসস
রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার পথে বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।
নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের বাংলাদেশের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।
এর ফলে রাষ্ট্রের হাতে নির্যাতন বা জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন পাওয়ার অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো।
নির্যাতনের কারণে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণের অধিকারী হবেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)–সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে সেই প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়।
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতের পথ সুগম
নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩টি রাষ্ট্র এ কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এতে অনুসমর্থন দেয়।
তবে অনুচ্ছেদ ১৪(১)–এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ—বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত দিয়েছিল।
এসব সংরক্ষণী শর্তের কারণে এত দিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা জটিল ছিল।
এখন সেই শর্ত প্রত্যাহারের ফলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হলো।
উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে। মানবাধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।