× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনী উত্তাপ সচিবালয় জুড়ে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১৫ এএম

বাংলাদেশ সচিবালয়। ছবি: বাসস

বাংলাদেশ সচিবালয়। ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। করিডোর, ক্যান্টিন, অফিস কক্ষÑ সবখানেই আলোচনার বিষয় একটাইÑ নির্বাচন, সম্ভাব্য ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব থেকে শুরু করে উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিবÑ এমনকি কর্মচারী পর্যায়েও নির্বাচনই প্রধান আলোচ্য।

একাধিক অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এখন সংসদ নির্বাচনের আগে সচিবালয়ে ফাইলের চেয়ে রাজনীতি বেশি আলোচিত হচ্ছে। কোন দল ক্ষমতায় আসবে, কারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবেনÑ এসব নিয়েই আলোচনা চলছে। দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এর গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের আগে কোনো ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছেন না। ফলে প্রশাসন কার্যত এক ধরনের ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে চলে গেছে।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই নজর দেয় প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় যেসব কর্মকর্তা বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিলÑ তাদের একটি বড় অংশকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন আটকে থাকা পদোন্নতি একযোগে কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন করা হয় এসব কর্মকর্তাকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়Ñ যা প্রশাসনে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আবহ সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাবেক সচিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই রদবদল প্রয়োজনীয় ছিল কি না, সে প্রশ্ন থাকলেও এটা ঠিক যে প্রশাসনের ভারসাম্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে প্রশাসনের ভেতরে একদিকে যেমন স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বিন্যাস নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা।

আমলাতন্ত্রে ভাবাদর্শিক বিভাজন : অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রশাসনের ভেতরে একটি স্পষ্ট ভাবাদর্শিক বিভাজন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সূত্রগুলো বলেছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিএনপি-ঘনিষ্ঠ এবং আরেকটি অংশ জামায়াত-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। যদিও সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তবে কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপনে কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার জন্য নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুগ্ম সচিব বলেন, এখন তাদের মধ্যে অনেকেই হিসাব কষছেন, কে জিতলে কার ক্যারিয়ার নিরাপদ থাকবে। তবে এমন ভাবাদর্শিক বিভাজন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ এটি ভবিষ্যৎ সরকারের আমলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা : সচিবালয়ের ভেতরের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রুটিন কাজ চললেও বড় প্রকল্প, নীতিগত সিদ্ধান্ত বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যত থমকে আছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এসব সিদ্ধান্ত নিলে নতুন সরকার এসে তা বাতিল করতে পারে বা তদন্তের মুখে পড়তে পারে। এখন কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সচিবালয়ে এই ঢিলেঢালা পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই আমলারা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিতের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। বিশেষ করে ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ফাইল নিষ্পত্তির গতি কমে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ : সাবেক আমলা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনে যে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস হয়েছে, তার রেশ এখনও কাটেনি। নির্বাচনের কারণে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে সংসদ নির্বাচনকালে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা ও নজরদারি জোরদার করতে পারত। তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রশাসনে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ সচিবালয় এখন এক ধরনের প্রশাসনিক অপেক্ষার ঘরে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার আসার প্রতীক্ষায় আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ কার্যত সময় গুনছে। এই অবস্থায় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রশাসনের এই নীরব অস্থিরতা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রশ্ন একটাইÑ নতুন সরকার কি পারবে এই বিভক্ত প্রশাসনকে আবার কার্যকর ও নিরপেক্ষ ধারায় ফিরিয়ে আনতে?

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা