× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গোয়েন্দা প্রতিবেদন

অর্ধশত আসনে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শঙ্কা

তানভীর হাসান ও নূর মোহাম্মদ মিঠু

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৩ পিএম

প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

আর মাত্র ১০ দিন বাকি নির্বাচনের। এরই মধ্যে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার তৎপরতা থেকে ঘটতে শুরু করেছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি, হুমকি, আক্রমণাত্মক কথাবার্তা, নারী কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে ত্রিমুখী শক্তির মুখোমুখি অবস্থান ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে রক্তপাতময় হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে ১৬ জনের। এর মধ্যে ১৩ জনই বিএনপি নেতাকর্মী। 

গোয়েন্দা তথ্যমতে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ৭৮টি আসনই এখন ‘হাই রিস্ক জোন’। এর মধ্যে ৪৩টি আসনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা রয়েছে। এসব আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে পরিস্থিতিকে ‘আরও উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩০০ আসনেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর শঙ্কাও রয়েছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। 

৭৮ আসনে ত্রিমুখী সংঘাতের আশঙ্কা : সূত্রমতে, অনেক এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী, স্থানীয় কিশোর গ্যাং এবং আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারী চক্র সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। পোস্টার ছেঁড়ার মতো ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও মুহূর্তেই তা পরিণত হচ্ছে রক্তাক্ত সংঘর্ষে। বিশেষ করে বিএনপির ৭৮টি বিদ্রোহী প্রার্থীর আসনে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী সংঘাতের ভয়াবহ সমীকরণ। এসব আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদিনই ঘটছে বাধা, হামলা ও পাল্টাহামলার ঘটনা। কোথাও পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে, কোথাও মাইকিং বন্ধ করতে গিয়ে সংঘাত হচ্ছে; কোথাও কোথাও আবার হুমকি দিয়ে ও অস্ত্র দেখিয়ে এলাকা দখলের চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা ৭৮ আসনে সহিংসতার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, অতীতের রাজনৈতিক সহিংস দূরত্ব, নিরাপত্তা নিয়ে অনাস্থা এবং প্রকাশ্য হুমকির সংস্কৃতি। প্রচারকাজ এখন আর পোস্টার-ব্যানারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং লাঠি, চাপাতি, ককটেল ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে করে তুলেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

তফসিল ঘোষণার পর ৭৩টি সংঘাত, নিহত ১৬ : গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৭টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বিএনপি কর্মী। সব কটি ঘটনায় আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, প্রকৃত আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেকেই ভয়ে বা রাজনৈতিক চাপের কারণে হাসপাতালে যাননি। 

গোয়েন্দা সংস্থার পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত ৯ জন প্রার্থী। ঘটেছে ৭৩টি সংঘর্ষের ঘটনা। এসব ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ১৬ জন, যার মধ্যে ১৩ জনই বিএনপির কর্মী-সমর্থক। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রচারের শেষ পর্যায়ে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সবশেষ গত শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারাভিযানের প্রথম সাত দিনেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষের অধিকাংশই হয়েছে বিএনপি এবং জামায়াত ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে। এতে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

যা জানাচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তরের নথি 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ১৪৪টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি। এ ছাড়া ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ১১টি, প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ৬টি এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ২টি।

নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে মোতায়েন থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে দেড় লাখ পুলিশ, এক লাখের বেশি সেনাসদস্য এবং ৫ লাখ ৭৬ হাজার আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে এত প্রস্তুতির পরও উদ্বেগ কাটেনি। বরং প্রচারের মাঠে সংঘাত বাড়ছেই। গত বুধবার রাজধানীর দোলাইপাড়ে গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী নেত্রীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ভোটের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নির্বাচনের আগে শেষ কয়েকটি দিনই এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এমন সতর্কবার্তাই দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সজাগ আছি। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা