বাসস
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২২ পিএম
ছবি: বাসস
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে ২.১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ১৯.৪৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার।
বাসস-এর সাথে আলাপকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং রিজার্ভ বাড়াতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপ প্রবাসীদের আয় বা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, “এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়”।
তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।
মাইকেল মিলার বলেন, “ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহ পায়—এ জন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ”।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি”।
তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ইইউ’র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।’
বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।