প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫০ পিএম
কমনওয়েলথ ও ইইউর পতাকা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দুই সপ্তাহ পর হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বড় দল নিয়োজিত করবে।
ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে লন্ডনে এ মাসের শুরুতে ঘোষণা করেছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে।
প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে বাসস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আকুফো-আডো কমনওয়েলথের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, আইন,
মিডিয়া, লিঙ্গ ও নির্বাচনি প্রশাসন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দেবেন।
পর্যবেক্ষক দলকে সমর্থন দেবে একটি সচিবালয় দল, যার নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচনি সহায়তা
বিভাগের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
কমনওয়েলথের বক্তব্যে
বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং
অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক
দলের মধ্যে রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা
লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা
মোহাম্মদ রাজি, এবং এন্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ
আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিশ্চিত
করেছে, ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও
কানাডার প্রতিনিধি নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনে (ইওএম) অংশ নেবেন। এতে নেতৃত্ব দেবেন
লাটভিয়ার এমপি ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস। এছাড়া অন্তত আরও সাতজন এমপি— লুকাস মান্ডল (অস্ট্রিয়া), লোরান্ট ভিঞ্চে (রোমানিয়া), টোমাশ জডেচোভস্কি
(চেকিয়া), লেইরে পাশিন (স্পেন), শেরবান দিমিত্রি স্টুরডজা (রোমানিয়া), মাইকেল ম্যাকনামারা
(আয়ারল্যান্ড) ও ক্যাটারিনা ভিয়েরা (নেদারল্যান্ডস)— ১০ থেকে
১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইওএম
কার্যক্রম শুরু করে গত ২৯ ডিসেম্বর একটি মূল দলের আগমনের মাধ্যমে। মূল দলটিতে ১১ জন
বিশ্লেষক রয়েছে, যারা লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ার
সব পর্যায়— আইনি, রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও মিডিয়াসহ মূল্যায়ন
করছেন।
অতিরিক্তভাবে, ৫৬
জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে মোতায়েন করা
হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঢাকায় মূল দলকে
প্রতিবেদন দিচ্ছেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তাদের সঙ্গে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক
যুক্ত হবেন।
নির্বাচনের দিন,
বাংলাদেশের প্রত্যয়িত কূটনৈতিক মিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা ভোট গ্রহণ, গণনা
ও ফলাফলের ট্যাবুলেশন পর্যবেক্ষণে যোগ দেবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে,
তার পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন,
নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে
নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সফরের সমন্বয় সহায়তা করছেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া
মোরশেদ।
“বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা
থেকে নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ বাড়ছে দেখে আমরা উৎসাহিত, যা অন্তবর্তীকালীন সরকার
ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করে যে, এটি একটি স্বাধীন ও
সুষ্ঠু নির্বাচন হবে,” বলেন লামিয়া মোরশেদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন ও জুলাই সনদের জন্য গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রায় ২,০০০ প্রার্থী, ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল
ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।