প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৪ পিএম
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর-এর লোগো।
সামরিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনালের (সিইটিসি) মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি হয়েছে।
ঢাকায় বিমান বাহিনী
সদর দপ্তরে মঙ্গলবার এই চুক্তি সই হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা
হয়েছে, ‘মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি
হস্তান্তর (টিওটি)’ প্রকল্পের আওতায় এই চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
এবং সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন
কেন্দ্র স্থাপন করবে।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য
দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা
উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এটি দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতা
অর্জনে সহায়তা করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে,
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ‘মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স’
(মেইল) এবং ‘ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (ভিটল) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের
সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান বাহিনী নিজস্ব নকশার ইউএভি উৎপাদনেও
সক্ষম হবে।
আইএসপিআর জানিয়েছে,
এই ড্রোনগুলো সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তির ফলে দেশীয় ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের সক্ষমতা
প্রসারিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বিশেষায়িত
প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল তৈরির মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত
অগ্রগতিতেও অবদান রাখবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ
খাঁন। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের
প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ
আহমেদ চৌধুরীসহ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।