প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৬ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৪ এএম
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ছবি: বাসস
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৪তম বার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থানের পর ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম এই স্বপ্নদ্রষ্টা মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার পর মওলানা ভাসানীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ঢাকার সংবাদপত্রগুলোতে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার তার প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
দিল্লি থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথে ১৯৭১ সালের ২১ জানুয়ারি আসামের ফরিদগঞ্জে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন মওলানা ভাসানী। সেই ভাষণে তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
পরদিন, অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি, মেঘালয় থেকে ভারত সরকারের একটি জিপে চড়ে তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
তৎকালীন সময়ে এই মহান নেতার শারীরিক অবস্থা কিছুটা দুর্বল থাকায় তার সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক নিয়োজিত ছিলেন। হালুয়াঘাটে তাকে সাদামাটাভাবে অভ্যর্থনা জানান ময়মনসিংহের তৎকালীন জেলা প্রশাসক খসরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগী।
মওলানা ভাসানী ছিলেন বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পুরোধা। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আজকের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্ব ছিল অবিস্মরণীয়।
১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশে তার সেই কালজয়ী “আসসালামু আলাইকুম” উচ্চারণ আজও বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী প্রেরণা হয়ে আছে।
মজলুম জননেতার এই প্রত্যাবর্তন দিবসটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।