× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নানা উদ্যোগ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪ এএম

    এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক  করতে নানা উদ্যোগ

দেশে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে এলপি গ্যাস আমদানি সহজ ও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া সরকার জিটুজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করছে। এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে বাজারে গ্যাসের চলমান সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের ওপর তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমবে এবং বাজারে এলপিজির সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে দেশে সংরক্ষণ ও সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ ধাপে সময়ক্ষেপণের কারণে আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও এখন একই সুবিধার আওতায় এলেন। এতে করে এলপিজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধা পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাণিজ্যিক ঋণের পাশাপাশি আমদানিকারকরা প্রয়োজনে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশের নির্ধারিত ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও নেওয়া যাবে। তবে এসব সুবিধা নিতে হলে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণ-সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির পর তা বাজারে সরবরাহ করতে সময় বেশি লাগায় আমদানিকারকদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপ কমানো এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যের আমদানিতে গতি আনতেই বাকিতে মূল্য পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিতে তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা হলেও কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

এদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে সরবরাহ বাড়াতে সরকার জিটুজি প্রক্রিয়ায় পণ্যটি আমদানির চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গতকাল বিকালে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বাড়তি দাম ও সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশে এলপিজি বাজারের প্রায় ৯২ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে এবং সরকারি খাতে রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। সরকারের হাতে থাকা অংশটি খুবই সীমিত হওয়ায় পুরো বাজার কার্যত বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এলপিজি খাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছে, যাতে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা যায় এবং ভোক্তারা ন্যায্য দামে এলপিজি পেতে পারেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে কিছু অতিরিক্ত এলপিজি আমদানি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে এক-দুদিন আগেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অতিরিক্ত এলপিজি দেশে পৌঁছতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’ এলপিজি আমদানি কম হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, তার মতে আমদানি কম হয়নি। কারণ এলপিজি অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে আমদানির জন্য বেশি এলসি খোলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সরবরাহ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ভোক্তা এখনও এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না। চলতি মাসে সরকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা ‘গ্যাস নেই’ অজুহাতে আরও অনেক বেশি দামে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট কমাতে, আমদানি বাড়াতে এবং বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা