মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৪ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪ পিএম
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ফটো
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেওয়া এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাদের বাহিনী থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে ওই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য হলেন, শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ। মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, রবিবার রাতে ওই নারী ও তার স্বামী নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানা বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্যানটির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে তারা নিরাপত্তার জন্য সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ ও আবু সাঈদ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাদের হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে কৌশলে স্বামীকে নিচে রেখে গৃহবধূকে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন তারা।
পরে ভুক্তভোগী নারী নিচে নেমে তার স্বামীকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের মধ্য থেকে অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ভুক্তভোগী ওই নারীকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। আমরা চাই অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, “বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সকল আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”