নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৬ পিএম
শীতে নাজেহাল জনজীবন
নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
শুক্রবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। এদিন দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র দেড়শ থেকে ২০০ মিটার।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থেকে শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।
গত তিন দিনে মাত্র ঘণ্টাখানেক সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
চলতি মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা প্রায় মিলছেই না। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জেলা শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড় এলাকার রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন ও মমিনুর বলেন, ‘আমাদের পরিবারের খাবার জোগাতে হয় রিকশা চালিয়ে। গত তিন দিন ধরে সকালে স্ট্যান্ডে এসে বসে থাকি, কিন্তু যাত্রী পাওয়া যায় না।’
অপরদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতামূলক নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক অঙ্কের ঘরে নেমে আসে।