ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৫ পিএম
মধ্য পৌষে শীতের প্রকোপে দিশেহারা মানুষ। দেশজুড়ে ঘন কুয়াশা। কখনও ক্ষণিক উঁকি দিলেও পরক্ষণেই কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সূর্য। গত এক সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে চলছে এই লুকোচুরি।আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কুয়াশার আগ্রাসন বেড়ে যাওয়ায় সূর্যের কিরণকাল দশকভিত্তিতে কমছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষিখাতেও বেশকিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিপূরণের স্থলে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। এতে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত ব্যক্তি-পরিবারও সহযোগিতা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো, বজলুর রশিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে, বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘুর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে টানা শীতের প্রকোপও বাড়ছে। এবার আমাদের পর্যবেক্ষণ ছিল ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহ পড়বে না কিন্তু সে অবস্থাও পাল্টে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এসব মূল গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে হচ্ছে। আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনই জলবায়ুর অবস্থা নির্দেশ করে। তাই পরিবেশকে ভালো রাখতে হলে আবহাওয়াকে ভালো রাখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
কী বলছেন ভুক্তভোগীরা
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার
শম্পা রাণী পালের বাড়ি সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এ পর্যন্ত
তিনবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিনি। হারিয়েছেন বাড়িঘর, ফসলের জমি, গবাদি পশু। ৪ সন্তান
নিয়ে বর্তমানে কষ্টে দিনানিপাত করছেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে
কথা হয়। শম্পা রাণী পাল জানান, প্রতিনিয়ত দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে তার পরিবারকে চলতে
হচ্ছে। অথচ এক সময় নিজেদের পর্যাপ্ত সম্পদ ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক
দুর্যোগের কবলে পড়ে আজ তিনি নিঃস্ব। শম্পা রাণী পালের সঙ্গে সেদিন আম্বিয়া আখতার ও
রাজিয়া বেগমসহ কয়েকজন নারীও এসেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের প্রায় একই ধরনের সমস্যার মুখে
পড়তে হয়েছে।
জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের
অবস্থা
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ
ইনিশিয়েটিভের ‘বাংলাদেশের জলবায়ু ঋণের পরিস্থিতি নিয়ে ‘ক্লাইমেট ডেট রিস্ক ইনডেক্স
(সিডিআরআই-২০২৫)’
গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যেক ব্যক্তির জলবায়ু ঋণ ৭৯.৬ মার্কিন ডলার আর ঋণ–অনুদানের অনুপাত হচ্ছে ২.৭: ১ ডলার। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে ঋণের চাপে শীর্ষে।
বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণের অংশ ০.৫
তা ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যেও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বৃহত্তম।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বহুপাক্ষিক
উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) থেকে গ্রহণ করা ঋণের অনুপাত ০.৯৪, যা বৈশ্বিক গড় ০.১৯-এর
প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
গবেষণায় বলা হয়, প্যারিস চুক্তির
‘ক্ষতিপূরণ’হিসেবে অঙ্গীকার করা আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নটি
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ‘জলবায়ু ঋণ ফাঁদে’আটকে ফেলছে। ২০০০
থেকে ২০২৩ সালের পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে দেশের ১৩ কোটি
মানুষ। সেখানে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার।
কী বছলেন বিশেষজ্ঞরা
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)র সদস্য সচিব শরীফ জামিল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঋণের ফাঁদে আটকানোর মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিপূরণের দাবিকে অকার্যকর করার সুক্ষ্ম চক্রান্ত উন্নত দেশগুলো দীর্ঘদিন যাবত চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশের মত দক্ষিণের অন্যান্য দেশের উচিত সম্মিলিতভাবে এই চক্রান্ত মোকাবেলা করে জলবায়ু ন্যায্যতার দাবী আদায় করা। কিন্তু বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আমাদের নীতিনির্ধারকগণের যথাযথ অবস্থান ও নেতৃত্ব তুলে ধরায় ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ উন্নত দেশসমূহের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে বিপদাপন্ন করে তুলছে।
সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশের
(সিসিজেবি) পরিচালক অ্যাডভোকেট ম. হাফিজুল ইসলাম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার
বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে জলবায়ু ফান্ডের ক্ষতিপূরণের বদলে অর্থ ঋণ
নিয়ে ওভারব্রিজসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। অথচ সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী,
বরগুনা, খুলনার মানুষের ভাত খাওয়ার জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে না। এসব ঋণ মানুষের নাম করে
রাস্তা-ঘাট উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্লাইমেট ফাইনান্স এটা কমপ্লাইন ইস্যু আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। এজন্য সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারকে ঋণের প্রণবন থেকে বেরিয়ে এসে জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সেক্টরভিত্তিক সক্ষমতা সৃষ্টি করতে হবে ও সেই অনুযায়ী আলোচনা করে অর্থ নিয়ে আসতে হবে।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী
এম. জাকির হোসেন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে
ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। বিশ্বব্যাংক ও ইউএনইপির হিসাবে প্রতিবছর জলবায়ু দুর্যোগে
দেশের ৩–৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অথচ এই ক্ষতির
বিপরীতে বাংলাদেশ যে জলবায়ু অর্থায়ন পাচ্ছে, তার বড় অংশই অনুদান নয় বরং ঋণ।
আমাদের ‘ক্লাইমেট ডেবট রিস্ক ইনডেক্স
(সিডিআরআই) ২০২৪ ফর এলডিসিস এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেবট ইক্সপোজার অ্যানালাইসিসে’ দেখা
গেছে, বাংলাদেশের মাথাপিছু জলবায়ু ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮০ ডলার। গত এক দশকের বেশি সময়ে
বাংলাদেশে জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ সহনীয় খাতে আসা অর্থায়নের প্রায় ৬৫–৭০
শতাংশই ঋণভিত্তিক, যা ভবিষ্যৎ বাজেট ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকুচিত করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী,
জলবায়ু ক্ষতির তুলনায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের অংশ ক্রমেই কমছে।
তিনি বলেন, কপ-২৭ এ লস এন্ড ড্যামেজ
ফান্ড স্বীকৃতি পেলেও এটি এখনো বাধ্যতামূলক ও শর্তহীন ক্ষতিপূরণ বা শুধুমাত্র অনুদানভিত্তিক
অর্থায়ন কাঠামো প্রদান করা হয়নি। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের রায়ের
ভিত্তিতে জলবায়ু ন্যায়বিচার এটি ঐতিহাসিক দায় ও প্রাকৃতিক অধিকারভিত্তিক ক্ষতিপূরণের
প্রশ্ন। এই কাঠামো কার্যকর না হলে বাংলাদেশের ঋণচাপ আরও গভীর হবে। এ প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়
অর্থায়ন নিশ্চিতে কার্বন ও দূষণ করারোপসহ প্রকৃতি সুরক্ষার বিনিয়োগ ঋণ মওকুফ (ডেবট
ফর রাইটস অবে নেচার সেপ) এর ন্যায় উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার
দিতে হবে।
বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিপূরণ লস এন্ড ড্যামেজ গ্রান্ড পাওয়ার বদলে ঋণের চাপের মুখে পড়ছে। এর পেছনে মূলত ৬ কাঠামোগত, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে। ১. বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের নকশাই ঋণকেন্দ্রিক: উন্নত দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশ তারা গ্র্যান্ট আকারে না দিয়ে ঋণ আকারে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফসহ বহু বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক জলবায়ু প্রকল্পকে “উন্নয়ন প্রকল্প” হিসেবে ধরে, ফলে সহায়তা আসে সুদযুক্ত ঋণ হিসেবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নয়। ২. “ক্ষতিপূরণ দায়” স্বীকারে উন্নত দেশের অনীহা: জলবায়ু পরিবর্তনে ঐতিহাসিকভাবে দায়ী দেশগুলো আইনি ও নৈতিক দায় স্বীকার করতে চায় না। ক্ষতিপূরণ মানে দায় স্বীকার, এ কারণেই তারা লস এন্ড ড্যামেজ তহবিলকে দুর্বল, অনির্দিষ্ট ও সীমিত রাখতে চায়। ফলস্বরূপ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ঋণ নিতে বাধ্য হয়। ৩. বাংলাদেশকে এখনো “উন্নয়নশীল ঋণগ্রহীতা” হিসেবে দেখা: বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ক্লাইমেট ভিকটিম নয়, বরং ঋণযোগ্য উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে অভিযোজন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্বাসনের মতো খাতে অনুদানের বদলে ঋণ দেওয়া হয়। ৪. লস এন্ড ড্যামেজ তহবিল এখনো কার্যকর নয়: কপ-২৭ এ ক্ষতিপূরণ তহবিলের সিদ্ধান্ত হলেও কপ-৩০ এ এসেও অর্থায়ন খুবই সীমিত, ধীর ও অনিশ্চিত। এই তহবিল থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পেয়ে বাংলাদেশকে জরুরি পুনর্গঠন ও অভিযোজনের জন্য দ্রুত ঋণের পথে যেতে হয়। ৫. জাতীয় দরকষাকষি ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা: জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশ অনেক সময় ঋণ প্রত্যাখ্যানের শক্ত অবস্থান নিতে পারে না। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাজেট ঘাটতি মেটানোর চাপে পড়ে সরকার তুলনামূলক সহজ শর্তের ঋণ গ্রহণ করে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে তা ঋণের বোঝা বাড়ায়। ৬. জলবায়ু অর্থায়ন ও উন্নয়ন অর্থায়নের গুলিয়ে ফেলা: অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো উন্নয়ন ঋণকে “জলবায়ু
অর্থায়ন” হিসেবে পুনরায় লেবেল করা হয় (রিলাবেলিং)। ফলে বাস্তবে নতুন ক্ষতিপূরণ না এসে আগের মতোই ঋণের চাপ বাড়ে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের
ভুক্তভোগী, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় তাকে ঋণগ্রহীতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উন্নত দেশগুলোর দায় এড়ানোর প্রবণতা, দুর্বল ক্ষতিপূরণ তহবিল এবং ঋণনির্ভর আন্তর্জাতিক
আর্থিক কাঠামোর কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণের বদলে ক্রমেই ঋণের ফাঁদে পড়ছে। বাংলাদেশের
উচিত জলবায়ু অর্থায়নে আরও জোরালোভাবে গ্র্যান্ট, ক্ষতিপূরণ ও ঋণমুক্ত অর্থায়নের
দাবি তোলা, কারণ জলবায়ু সহায়তা দয়া নয়, এটি একটি ন্যায়সংগত অধিকার।
সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য
কী
পরিবেশ অধিদপ্তরের জলবায়ু পরিবর্তন
ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পরিচালক মির্জা শওকত আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বৈশ্বিক
তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে যে পরিমাণ ক্ষতি হবে সেখানে ২ ডিগ্রি বাড়লে ক্ষতি
আরো বাড়বে। বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণের স্থলে কেন ঋণে পা বাড়াচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি
বলেন, আমাদের কোন ঘাটতি নেই। তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর অবস্থান হচ্ছে- তারা জলবায়ু
অর্থায়নে ক্ষতিপূরণের টাকা দেবে না।
প্যারিস চুক্তি, লস এন্ড ড্যামেজের আওতায় যে অর্থায়ন পাওয়ার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব খাতে ৫-২০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে ন্যাশনাল ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশন (এনডিসি) ও ন্যাশনাল এডাপ্টেশন প্লানে (ন্যাপ) উল্লেখ করা কাজের ক্ষেত্রে কিছুই করা যাবে না। তবে আমরা চাচ্ছি একশ, দুইশ-চারশ মিলিয়ন ডলার বা এক বিলিয়ন ডলার, অথচ তা এসব অর্থ দিতে চাচ্ছে না। তিনি আমরা যৌথভাবে চাপ প্রয়োগ করছি। এলডিসি ও জি৭সহ বিভিন্ন দেশকে চাপ অব্যাহত আছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশ
ও পরিবারকে অর্থায়ন করা জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কান্ট্রি অব পার্টিস বা কপের
অন্যতম অঙ্গীকার। লস এন্ড ড্যামেজের আওতায় এ অর্থায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে
ভিন্ন।
এ সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাতিসংঘ অনুবিভাগের প্রধান এ কে এম সোহেল সম্প্রতি রাজধানীতে কপ-৩০ পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে বলেন, এখন পর্যন্ত ক্লাইমেট ফাইনান্সের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়নি।
ইউএনএফথ্রিসি ম্যাকানিজম বা আইপিসিসি কোনটাতেই করা হয়নি। এটি ইচ্ছাকৃত, কেননা
সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়িত হলে মাল্টিলেটারেল বা বাই লেটারেল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কত অর্থায়
করছে তা মনিটরিং হবে। তাদের জবাবদিহি করতে হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বহুদিন ধরে এটি
আড়াল করে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন তহবিলের কতগুলো প্রকল্প পেয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি প্রকল্পে অর্থায়ন পেয়েছে। সেখানে তিনটি আন্তর্জাতিক মাল্টিকান্ট্রি প্রোগ্রাম। তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করে না ও টাকার হিসেবও দেয় না। এসব প্রোগ্রামে দেশের কাজ বেশি হয় না। আর অভ্যন্তরীণ ৭টি প্রকল্প চালু আছে।
তিনি বলেন, এই ১০টি প্রকল্পে মোট
৪২৪ মিলিয়ন ডলার ও অ্যাডাপটেশন ফান্ডে তিনটি প্রকল্পে ২০.৭৪ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।
জিএফএতে মিলেছে ১২টি প্রকল্পে ৫১.৬৬ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে ইউএনএফথ্রিসি থেকে সর্বমোট
৪৭৪ মিলয়ন ডলার পাওয়া গেছে। সেখানে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ আছে। অর্থাৎ আমরা জলবায়ু অর্থায়নের
যে অর্থ পেয়েছি তার ৯০ শতাংশ ঋণ। আর বিশ্বে ঋণের পরিমাণ ৯৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, ফান্ড ফর রেসপোন্ডিং
টু লস এন্ড ড্যামেজে (এফআরএলডি) ২৮টি কপের পরে কপ-২৯ এ এসে ফান্ড দেওয়া শুরু করেছে।
এ পর্যন্ত আমরা ফান্ড পেয়েছি ২৫০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে জলবায়ু অভিঘাতে যতসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের হিসেব করলে মাথাপিছু অনুদানের
অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৪০ পয়সা। এ অবস্থাতেও আমাদের পিছু হটতে চলবে না বরং ক্ষতিপূরণ
পেতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সকলে মিলে অর্থ আদায় করতে হবে।