প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৫ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসকরাই (ডিসি) নির্বাচন পরিচালনার জন্য যোগ্য ও প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশিদ।
সচিবালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এবারের ভোটে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়িত্ব পাচ্ছেন না বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
“মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকরাই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং নির্বাচনের সময় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ৫৫ জন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন”, বলেন আবদুর রশিদ।
নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সচিব বলেন, “আমি আশাবাদী যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ। অভিজ্ঞতা একদিনে আসে না; পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
“যদি তাদের মনোভাব সঠিক থাকে এবং আমরা তদারকি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে তারা শতভাগ সফল হবেন।”
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় যদি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যা দেখা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে ঢালাওভাবে অভিযোগ করা সমীচীন নয়।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচনের এখনও এক মাস বাকি। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে।
‘নির্বাচন কমিশনের মতামতের অনেক বেশি গুরুত্ব’
মাঠ প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, একটি রাজনৈতিক দল সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে কিছু জেলা প্রশাসককে রদবদলের দাবি জানিয়েছে, তবে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে এবং এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে সরকার কমিশনের সিদ্ধান্ত সম্মান করবে।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মতামতের এখন অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে। কমিশন যদি মনে করে কোথাও রদবদল প্রয়োজন, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।”
দলীয় প্রার্থীদের কোন্দল ও অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া চলমান। শত শত প্রার্থী এরই মধ্যে আপিল করেছেন। আরও আবেদন জমা পড়ছে।
মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনিয়ম দেখিনি। কেউ কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হতে পারেন, এটাই স্বাভাবিক।
“সব সিদ্ধান্ত এক রকম হয় না। কোথাও ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং আমরা মেরিটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব।”