× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্নীতির শীর্ষে বিআরটিএ, ঘুষদানে শীর্ষে নোয়াখালী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২৭ পিএম

দুর্নীতির শীর্ষে বিআরটিএ, ঘুষদানে শীর্ষে নোয়াখালী

দেশের সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয় নোয়াখালীতে। আর সরকারি সেবা নিতে গিয়ে শীর্ষ ধনীরাই সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’ -এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।  

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটোরিয়ামে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

বিবিএস জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সের ৮৪ হাজার ৮০৭ নারী-পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটিএতে সেবা নিতে গিয়ে ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ নাগরিক দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। যেখানে সেবাগ্রহীতার ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ভূমি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ সেবা গ্রহীতা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ নাগরিক গত ১২ মাসে কোনো না কোনো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সরাসরি ঘুষ দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

জরিপের তথ্য বলছে, ঘুষ দেওয়ার মধ্যে পুরুষদের দেওয়ার হার ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, নারীদের ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ জনগণ ঘুষ হিসেবে ‘টাকা’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

এক বছরে ঘুষ লেনদেনে শীর্ষে আছে নোয়াখালী জেলা। এই জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগকারী নাগরিকদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা জেলা, যেখানে ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার হার ৫৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর ফরিদপুরে ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ভোলায় ৪৯ দশমিক ০১ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেন। এসব জেলায় সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের (৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি।

অন্যদিকে, কিছু জেলায় ঘুষের হার তুলনামূলক কম। সবচেয়ে কম ঘুষ দেওয়ার জেলা হিসেবে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম। সেখানে এই হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া মাগুরায় ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, লালমনিরহাটে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, গাজীপুরে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ ও সিলেটে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুষ প্রদান করেন।

জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য বিষয়ক এসডিজি ১৬ এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে, নমুনাভুক্ত খানার মধ্যে গড়ে সদস্য সংখ্যা ৪ জন, যার মধ্যে ৮১ দশমিক ৯৭ শতাংশ পুরুষপ্রধান পরিবার এবং ১৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নারীপ্রধান পরিবার।

জরিপে দেখা যায় যে, দেশের ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশের এলাকায় একা চলাফেরা করতে নিরাপদবোধ করেন। এ নিরাপত্তাবোধ পুরুষদের ক্ষেত্রে ৮৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং নারীদের ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এ হার ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে তারা সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে এই হার আরও কমে ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশে নেমে আসে। জাতীয়ভাবে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ জনগণ মনে করেন যে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়াপ্রবণ। এ বিষয়ে পল্লী অঞ্চলের ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও শহরাঞ্চলের ২৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।

গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জাতীয়ভাবে ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ জনগণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ৪০ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তাদের অন্তত একটি সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে (প্রাথমিক/ মাধ্যমিক) পড়াশোনা করেছে। এছাড়া ৭৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জনগণ অন্যান্য সরকারি সেবা (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) গ্রহণের অন্তত একটি প্রচেষ্টা করেছেন। এ সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে পাঁচটি মাত্রার ভিত্তিতে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবায় সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ৭২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) ৬৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

জাতীয়ভাবে প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ জনগণ গত দু’বছরে কোনো বিবাদ বা বিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ বা ৮৩ দশমিক ৬০ শতাংশ জনগণ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আনুষ্ঠানিক যেমন- আদালত অথবা অনানুষ্ঠানিক যেমন- কমিউনিটি নেতা কোনো না কোনো ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।

ফলাফল অনুযায়ী দেশের ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈষম্যের প্রধান ভিত্তি ছিল আর্থ-সামাজিক অবস্থা ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং লিঙ্গ ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বৈষম্যের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে নিজের পরিবারের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, গণপরিবহন/উন্মুক্ত স্থানে ৩৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং কর্মস্থলে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। মাত্র ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা