× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জন্মনিবন্ধনে চরম ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৪ পিএম

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৫ পিএম

জন্মনিবন্ধনে চরম ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

প্রায় তিন মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত যাতায়াত করছেন শাহিনূর বেগম। উদ্দেশ্য নাতনির জন্মনিবন্ধন করা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের শামরাকান্দির বাসিন্দা শাহিনূরকে প্রতিবারই ফিরতে হচ্ছে হতাশা নিয়ে। অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারেন, ‘আজ হবে না’। কখনও বলা হয়, আজ সার্ভার ডাউন আছে; কখনও বলা হয় অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কথা। উপায়ান্তর না দেখে তিনি কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। কিন্তু ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করেন না।

ঢাকার বাড্ডার বাসিন্দা হাসিবুর রহমানের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, মেয়ের জন্মনিবন্ধন করব, কিন্তু সে সুযোগই পাচ্ছি না। সব সময় সার্ভার ব্যস্ত দেখায়। কোনো তথ্য ভুল হলে তো আরও বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়। জন্মসনদ নিয়ে এখন এমন চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেক অভিভাবককে। বিশেষত নতুন বছর ঘনিয়ে আসায় সন্তানদের স্কুলে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অভিভাবকদের অনেককেই জন্মসনদ নিয়ে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। সার্ভার ডাউন, তথ্য সংরক্ষণ ও ডেটা আপডেট না হওয়া, আবেদন গ্রহণে ধীরগতি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে জন্মনিবন্ধন কার্যালয়গুলোয় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠছে ডিজিটাল যন্ত্রপাতির সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়েও।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জের গোপালদী পৌরসভার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি সার্ভার সাধারণত ডাউন হয় না। জন্মনিবন্ধন নিয়ে সারা বছর ভোগান্তিও থাকে না। তবে সমস্যা হয় বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে। তখন একসঙ্গে অনেকেই আবেদন করতে আসেন, ফলে চাপ বাড়ে এবং প্রসেস করতে সময় লাগে। তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে সেবা দেওয়ার নামে কিছু অসাধু কর্মচারী অনৈতিক লেনদেনও করে থাকেন। তবে প্রশাসন এ ধরনের আচরণ বরদাশত করে না।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পেতে কতদিন লাগেÑ এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে জন্মনিবন্ধন সাধারণত ১০-১২ দিনের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর মৃত্যুনিবন্ধন ১-৩ দিনের মধ্যেই দেওয়া সম্ভব।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ দ্রুত সংশোধন করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে এ কার্যক্রমে অগ্রগতি আসবে। এতে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে। পাশাপাশি মৃত্যুনিবন্ধন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উত্তরাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও নারীর অধিকার সুরক্ষা করা সম্ভব। জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সনদের ভুল সংশোধনের আবেদনের ফি মওকুফ এবং নিবন্ধন তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে ‘ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস’ প্রস্তুত বাধ্যতামূলক করার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে জন্মনিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যুনিবন্ধন ৪৭ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় যথাক্রমে ৭৭ ও ৭৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে প্রায় সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে।

এ প্রসঙ্গে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আইন সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে এসডিজির ১৬.৯ লক্ষ্যমাত্রা জন্মনিবন্ধনসহ সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র প্রদান অর্জনও সহজ হবে।’

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে নিবন্ধন বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে, জনবল ঘাটতি দূর করতে, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে, প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রযুক্তিবিদ ও গ্যালাক্সি গ্লোবাল আইটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সেবায় সার্ভার ডাউন, ধীরগতি ও অকার্যকারিতার কারণে নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মূলত অপর্যাপ্ত সার্ভার সক্ষমতা, পুরনো যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনবলের অভাব এ সমস্যার জন্য দায়ী। এর সমাধানে সার্ভার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্লাউড প্লাটফর্মে স্থানান্তর, লোড ব্যালান্সার স্থাপন, নিয়মিত ডেটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় দপ্তরে উচ্চগতির ইন্টারনেট, আধুনিক কম্পিউটার ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয় মিলেই সেবা হবে দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা