পূর্বাঞ্চল রেল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৪ এএম
চলতি ২০ ডিসেম্বর থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেন ভাড়া বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ বাড়িয়ে এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে ভাড়া বাড়ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গঠিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সাধারণ ট্রেন ও আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য আলাদা আলাদা নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ছয়টি প্রধান রুটে মোট ১১টি সেতুতে এই
নতুন পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। রুটগুলো হলোÑ ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট,
চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ। রেলওয়ের ভাষায় ‘পন্টেজ চার্জ’
হলোÑ রেলপথের মধ্যে অবস্থিত সেতু বা অনুরূপ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়ার ওপর
আরোপিত মাশুল। নতুন এই হিসাব অনুযায়ী, ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার পথ
হিসেবে গণনা করা হবে। ফলে মূল দূরত্বের হিসাব বাড়িয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ মে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে
রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমানো নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সরাসরি টিকিটের মূল্য
না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ সামঞ্জস্যের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায়
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ কাজ শুরু করে। গত ২৫ নভেম্বর রেলের উপপরিচালক
(মার্কেটিং) স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ২০ ডিসেম্বর থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর করার নির্দেশ
দেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বিষয়টি জনস্বার্থে প্রচারের
জন্য অনুমোদন দেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, শোভন
চেয়ার ৪৫০ টাকা এবং স্নিগ্ধা টিকিট ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিরতিহীন ট্রেনে
(সুবর্ণ/সোনার বাংলা) স্নিগ্ধার ভাড়া বেড়ে হবে ৯৪৩ টাকা। কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেসে
এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা বেড়ে হবে ২,৬৫৬ টাকা। ঢাকা-সিলেট রুটে মেইল
ট্রেনের ভাড়া ১৪০ টাকা, স্নিগ্ধা ৭৮৮ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ১,৪৬৫ টাকা নির্ধারিত
হয়েছে। চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে স্নিগ্ধার ভাড়া ৯০৯ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ১,৬৭৮ টাকা
করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-জামালপুর রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা ১,০৪১ টাকা
এবং এসি সিটের ভাড়া ১,২৫৪ টাকা হবে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া বাড়েনি।
তবে কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৯২৪ টাকা নির্ধারিত
হয়েছে।
জানতে চাইলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর
রহমান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে পুরনো ও বড় সেতুগুলোর (১০০ মিটারের বেশি) রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যয় মেটাতেই পন্টেজ চার্জ সমন্বয় করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সব রুটেই যে ভাড়া বাড়ছে,
তাও নয়। যেখানে বাড়ছে, সেটাও খুব বেশি নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে
সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। পশ্চিমাঞ্চলে পন্টেজ চার্জ চালু থাকলেও পূর্বাঞ্চলে হয়নি।
এবার মাত্র ১১টি সেতুর জন্য চার্জ যুক্ত করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া খুব বেশি
বাড়ানো হয়নি।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। পরিচালন
ব্যয় ও অবকাঠামো নির্মাণ-রক্ষণাবেক্ষণের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সামাল দিতে সরকার পন্টেজ
চার্জ আরোপ করেছে। এর আগে পদ্মা সেতুসহ পশ্চিমাঞ্চলের বড় সেতুগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা
চালু ছিল। এবার পূর্বাঞ্চলের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করায় ভাড়া সমন্বয় করা হলো।
বাণিজ্যিক বিভাগ জানায়, নতুন ভাড়ার তথ্য ইতোমধ্যে টিকিট ব্যবস্থাপনা
প্রতিষ্ঠান ‘সহজ (জেভি)’Ñকে পাঠানো হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকেই অগ্রিম টিকিটে বাড়তি ভাড়া
প্রদান করতে হবে যাত্রীদের।
উল্লেখ্য, রেলওয়ে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ট্রেন ভাড়া বাড়িয়েছিল।