ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৬ পিএম
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। প্রবা ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও দেশে ফিরেননি। এমন অবস্থায় তারেক রহমান দেশের ভোটার ও নাগরিক কি না —এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তাদের এ প্রশ্নকে অবান্তর বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু তিনি (তারেক রহমান) নির্বাচন করতে চেয়েছেন, তাহলে ধরেই নিতে হবে তিনি বাংলাদেশের ভোটার ও নাগরিক’।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে হাজী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেল বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় একই কলেজ মাঠে শৈলকুপা উপজেলাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘আমরা চাই সামনে নির্বাচনী ডামাডোলে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। আমরা তাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় দেখতে চাই। নির্বাচিত সরকার দেখতে চাই। ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে এটা দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন, গণতন্ত্র সবকিছুসহ এইদেশকে স্বপ্নের দেশে পরিণত করার জন্য যা কিছু অর্জন তা এসেছে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের হাত ধরে। জিয়া এবং জিয়া পরিবার বাংলাদেশের মানুষের আত্মার সাথে মিশে গেছে।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নির্যাতিত পরিবার ছিল জিয়া পরিবার উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০০৭ সালে তথাকথিত ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়ার দুই সন্তানকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত করেই ক্ষান্ত হননি— তাদেরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্যাতন করে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। আরাফাত রহমান কোকো নির্যাতনের ভয়াবহতায় একপর্যায়ে জামিনে যখন দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যান সেখানেই তার মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যেতে রাজকীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল তিনি যা চাইবেন সবই পাবেন। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন— আমার দুইটি সন্তান নয়; বাংলাদেশে আমার লক্ষ কোটি সন্তান আছে। আমার দুই সন্তানকে ভালো রাখার জন্য আমি আমার লক্ষ কোটি সন্তানকে অরক্ষিত রেখে এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না। এই দেশ আমার, এই দেশের মাটিতে আমার স্বামী জিয়াউর রহমান ঘুমিয়ে আছেন, এই দেশে লক্ষ কোটি সন্তানকে অরক্ষিত রেখে আমি পৃথিবীর কোথাও গিয়ে শান্তি পাবো না।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘সেদিন বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত না করে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাননি বলেই আজকের বাংলাদেশ গণতন্ত্রের মহাস্বর্গে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রায় আমরা নিরন্তনভাবে পথ চলছি।’
আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন— এমন আশাবাদ ব্যাক্ত করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চাই সামনে নির্বাচনী ডামাডোলে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। আমরা চাই সেই নির্বাচনী ডামাডোলে বেগম খালেদা জিয়া ধানের শীষের পক্ষে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোট চাইবে। তার লক্ষ কোটি সন্তানের পাশে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পাশে তিনি (খালেদা জিয়া) থাকবেন প্রত্যাশা রাখি বলেই আজকে সকলের সাথে আমি এসে তার জন্য দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করবো। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’
দোয়া মাহফিলে উপজেলার নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া শেষে হেফজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।