প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম নিশ্চয়তা নির্ভর করে বিচারকদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা এবং সাহসিকতার উপর বলে মন্তব্য করেছেন গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকার গুলশানে হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের ঢাকা কার্যালয়ের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একজন বিচারককে প্রতিটি মামলা সমান উদ্যম, কঠোরতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে যখন বিচারকগণ তাদের পোশাক পরিধান করবেন, তখন তাদের সংবিধানের কথাগুলো স্মরণ করা উচিত। প্রজাতন্ত্র হবে এমন এক গণতন্ত্র যেখানে সব মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর জোর দিয়ে বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলি, যেখানে ঢাকার একজন ফেরিওয়ালা বা খুলনার একজন পোশাকশ্রমিক বা সিলেটের একজন রিকশাচালকও বলতে পারেন, আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি, আমরা বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি।
ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের চিফ অফ মিশন হুমা খান বলেন, বিচারকদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গুমের ভিক্টিমদের করুণ পরিণতি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।
তিনি বলেন, আমি যেসব ভিক্টিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অধিকাংশই সামাজিক চাপ ও মানসিক কষ্টে ভুগছে। মামলা পরিচালনায় ভয়ভীতি, তদন্ত জটিলতা এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কাজ পরিচালনার জন্য কমিশনের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি কমিশনের সভাপতি ও সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
কর্মশালায় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মো. নূর খান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।
এতে দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত প্রায় ৯০ জন বিচারক অংশগ্রহণ করেন।