প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৫৪ এএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০২:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং তার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খোঁজখবর নিয়ে রাত ১২টা ৬ মিনিটে তারা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। এসময় সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া বর্তমানে সিসিইউতে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছে।
এদিকে রাত ১২টার পর হাসপাতালে ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আবদুল মঈন খান বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড বসেছিল, বোর্ড তাঁর (খালেদা জিয়া) সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং যা যা করা দরকার, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
তাছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সংবাদিকদের বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করছি উনি স্টেবল না। আরেকটু উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভাল হবেন, ভাল থাকতে পারবে। ওনাকে সুস্থ করার জন্য যতটুকু ট্রিটমেন্ট করার দরকার আমরা চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, ম্যাডামের হুঁশ আছে, আমাদের চিনতে পেরেছেন। আমরা সালাম দেওয়ার পর তিনি রিপ্লাই করেছেন।’
এ সময় তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু মসজিদ মাদ্রাসা নয়, সারাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন ব্যক্তিগতভাবে ম্যাডামের জন্য দোয়া করেন।’
এর আগে শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিয়মিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’