ভূমিকম্প
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০৫ পিএম
অকালে ঝরে গেলেন মেডিকেলের মেধাবী ছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি।
ছুটির সকালে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আবদুর রহিম। সঙ্গে নিয়েছিলেন স্কুলপড়ুয়া ছেলে রিমনকেও। বাবা-ছেলে তখন মাংস কেনার জন্য দাঁড়িয়েছেন রাজধানীর বংশালের কসাইটুলিতে নয়নের মাংসের দোকানে। হঠাৎ-ই ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ভেঙে পড়ে ভবনের ছাদের রেলিং। এতে একসঙ্গে প্রাণ হারান বাবা-ছেলে। একই স্থানে মারা যান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম রাফি। তিনিও মা নুসরাত বেগমের সঙ্গে একই দোকানে গিয়েছিলেন মহিষের মাংস কিনতে।
আবদুর রহিমের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের বশিকপুর গ্রামে। পুরান ঢাকার গার্ডেন সিটিতে তার কাপড়ের ব্যবসা। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সুরিটোলা স্কুলের পেছনে। ছুটির দিনে ঘরে ভালো খাবারের আয়োজন করেছিলেন রহিম। সে কারণেই বেরিয়েছিলেন মাংস কিনতে। সঙ্গে নিয়েছিলেন ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে রিমনকে।
সকাল থেকে আবদুর রহিম ও তার ছেলের লাশ পড়েছিল মিটফোর্ডের মর্গে। স্বজনদের কেউ জানতেন না মৃত্যুর খবর। খবর পেয়ে আবদুর রহিমের ছোট ভাই মো. নাসির ও মো. গোলাম মোস্তফা তাকে খুঁজতে আসেন হাসপাতালে। ভাইয়ের লাশ দেখে মর্গের সামনে আর্তনাদে ভেঙে পড়েন মো. নাসির। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজের পর মা মাহফুজা বেগম ফোন করে জানান, আমার ভাই ও ভাতিজা সকালে মাংস কিনতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্পের পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’ মায়ের কাছে খবর জেনে খুঁজতে খুঁজতে তারা মর্গে আসেন।
এদিকে বেলা ১টার দিকে দেখা যায়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে কাঁদছেন রাফিউল ইসলাম রাফীর সহপাঠী ইমতিয়াজ উদ্দিন নাদিম। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, রাফিউল তার মায়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়েছিল। সকালে ফেসবুক গ্রুপে দেখলাম। রাফিউলের একটা ছবি দেওয়া। মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। এখানে এসে দেখি, সে আর নেই। ওর মা গুরুতর আহত।’
জানা গেছে, রাফিউলের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। তারা দুই ভাই-বোন। বাবা চাকরি করেন দিনাজপুরে। হলে সিট পেলেও মা ও বোনের সঙ্গে বংশালের বাসায় থাকতেন তিনি।
বংশালের কসাইটুলির যে ভবনটির ছাদের রেলিং ভেঙে পড়েছে, সেখানের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ভূমিকম্পে পুরো বিল্ডিং দুলছিল। ওপর থেকে কিছু পড়ার আওয়াজ শুনে তারা দেখতে পান একজন শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কয়েকজন ধরে দ্রুত রিকশা ও ভ্যানে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মাংসের দোকানটিতে গতকাল মহিষ জবাই করে বিক্রি করা হয়। এই মাংস কিনতে ভবনটির নিচে অনেকে ভিড় করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।