প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ২১:০৮ পিএম
উইন্ডি ডটকম থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে মোন্থার গতিপথ।
বঙ্গোপসাগরের মাঝে প্রবল হয়ে ওঠা ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ মঙ্গলবার রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা
থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর
ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম
দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন
এলাকায় (১৫.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮২.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার রাত নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ
উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,
খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ,বরিশাল, চট্টগ্রাম ও
সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার
থাকবে।
এছাড়া বুধবার রংপুর,
রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট
বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেইসঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। বুধবার
সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সে. কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে
পারে।
এর আগে দেওয়া পূর্বাভাসে
বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মোন্থা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৬৫ কিলোমিটার,
কক্সবাজার থেকে এক হাজার ২৩০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে এক হাজার ১০৫ কিলোমিটার ও পায়রা
সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের
কেন্দ্রে ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার,
যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল
থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি
সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেইসঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত
সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে
সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।