প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫৭ পিএম
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাওরের উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাওর রক্ষা মানে দেশের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, হাওরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) নিজেদের মত করে কাজ করবে। সেখানে সরকারের সঙ্গে কাজ করলে আরও ভালো হবে। কেননা হাওর আমাদের খাদ্যের ১৭ ভাগ যোগান দেয়।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর পানি ভবনে ‘ইউকে বাংলাদেশ কোলাবরেশন অন ইকোলজি-বেইজড অ্যাডাপ্টেশন এন্ড হাইড্রো-মেট্রোলজিকেল সার্ভিসেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, সরকার ইতোমধ্যে হাওর ও জলাভূমি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরকে অন্তর্ভুক্ত করে পানি আইনের আওতায় সুরক্ষা আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর এসব এলাকা জলবায়ু ও কৃষিবান্ধব ইকোসিস্টেম হিসেবে ব্যবস্থাপিত হবে।
তিনি বলেন, হাওরবাসীরা এখনো স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা এমন একটি নৌ-হাসপাতাল মডেল বিবেচনা করছি, যা বন্যা ও শুষ্ক মৌসুম-উভয় সময়েই চালু রাখা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিবেচনা করতে পারে।
তিনি আরও জানান, এনরিচ প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীতে বন্যা পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিস, রাইমস, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসে এই সহযোগিতা আমাদের বিশ্লেষণী সক্ষমতা বাড়াবে, যাতে বৃষ্টিপাত ও জলবিদ্যুৎ তথ্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এমেবেট মেনা, ব্রিটিশ হাইকমিশনের (ঢাকা) ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিসিইআরয়েল প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, কেয়ার বাংলাদেশ নবপল্লব প্রকল্পের চিফ অব পার্টি ও উপদেষ্টা সেলিনা শেলি খান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক রওফা খানম।
অনুষ্ঠানে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিয়া ও নাগরিক সমাজের ১৫০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
প্যানেল আলোচনায় এডিবি, সিএনআরএস, আরএসএফ এবং বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু নীতিতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন অভিযোজন অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।