প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২২ পিএম
ছবি সংগৃহীত।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আগামী সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মন্থা’। এটি থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। ‘মন্থা’ শব্দের অর্থ “সুগন্ধি ফুল” বা “সুন্দর ফুল”।
আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আবহাওয়ার ২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩০ কি.মি. দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫৫ কি.মি. দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩০৫ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গত শুক্রবার বেলা ১১টায় সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে আজ এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপের পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে আগামী সোমবার সকালে। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘মন্থা’। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধপ্রদেশে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টি হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টায় লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তীতে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে- গত শুক্রবার সকালে সৃষ্ট এই নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। রবিবার এটি ভয়ানক রূপ নেবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তা ছাড়া ২৭ অক্টোবরের জন্য চেন্নাই, তিরুভাল্লুর এবং রানিপেট জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ওই দিন অতি ভারি থেকে অতি অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি উপকূলজুড়ে দমকা হাওয়া, যা ঘণ্টায় ৬০–৭০ কিমি বেগে বইতে পারে।