প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৫ পিএম
ছবি: ফোকাস বাংলা।
জুলাই জাতীয় সনদ অনুষ্ঠানের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের অনেক স্রোত, কিন্তু মোহনা একটি। সেটি হলো গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করা। সেই স্বপ্ন, প্রত্যাশার স্মারক যতটুকু অর্জিত হয়েছে- জুলাই জাতীয় সনদ সেটির প্রথম পদক্ষেপ।’
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, এই অগ্রসরমানতায় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ভূমিকা আছে। প্রত্যাশা থাকবে রাজনৈতিক দলগুলো মত ও পথের পার্থক্য থাকা স্বত্ত্বেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, জাতীয় সনদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি নয়। এটি হচ্ছে নাগরিকের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি। এই সামাজিক চুক্তির প্রত্যাশা প্রত্যেকটি বিষয়ের মধ্যে জড়িত আছে। বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের তাদের কষ্টের তাদের প্রচেষ্টার প্রত্যেকটি বিন্দু যুক্ত আছে। গত বছরের জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা আজকে আহত আছেন, যে জুলাই যোদ্ধারা আজকেও সামগ্রিকভাবে কষ্টকর জীবন যাপন করছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদানের মধ্য দিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছে। কেননা জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিফলন।
আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে গত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন তৈরি হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা, যে দৃঢ়তা বাংলাদেশের নাগরিকরা দেখিয়েছেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচনা, পরে এক দফা দাবিতে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শাসককে পলায়নে বাধ্য করতে পেরেছে। সেই অর্জনের একটি স্মারক হচ্ছে এই জাতীয় সনদ। এখানেই এর শেষ নয়। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আমাদের যে চেষ্টা, সবার যে চেষ্টা, সেই চেষ্টা একদিনে সাফল্য অর্জন করবে না। একটি দলিল কেবলমাত্র সেটা নিশ্চয়তা দেবে না। যে জাতীয় দলিল তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন ঘটবে। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন ঘটবে। নাগরিকদের মতামতের মধ্য দিয়ে এই দিক নির্দেশনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, আমাদের মতের পার্থক্য থাকবে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য না থাকলে তা গণতান্ত্রিক হয় না। মতের পার্থক্য থাকবে, পথের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু একজায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যেকোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই দাঁড়িয়ে থাকব। সেই স্বপ্ন সেই প্রত্যাশা, সেই চেষ্টার স্মারক যতটুকু আমরা অর্জন করেছি, এটি প্রথম পদক্ষেপ।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আরও ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরোয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জুনায়েদ সাকি প্রমুখ।
এর আগে বিকাল ৪টা ৩০মিনিটের সময় মঞ্চে এসে উপস্থিত হন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তারও আগে বিকাল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপস্থিত হোন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফওজুল কবির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিপাকে পড়েন।