প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:২২ পিএম
স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে ডিম যুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আমাদের স্কুল ফিডিংয়ে দুধ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ডিমও যুক্ত করতে হবে। কেননা অনেক দরিদ্র ছেলে-মেয়ে পুষ্টির যোগান পায় না। সেক্ষেত্রে স্কুলের খাবার তালিকায় ডিম রাখলে সেই পুষ্টি পূরণ সম্ভব।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ পোল্ট্রিা ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল ও ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, ওয়াপসা বিবির সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন ও অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান সিকদার।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন।’
ফরিদা আখতার বলেন, ডিম খাবারের ক্ষেত্রে দেশের সবশ্রেণির মানুষ জড়িত। এটি উৎপাদন ও খাদ্যের সঙ্গেও সবাই জড়িত। গরুর মাংস সবাই কিনতে না পারলেও সহজেই ডিম কেনা যায়।
তিনি বলেন, আমাদের ৬ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তাই স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে ডিম যুক্ত করতে হবে। আমাদের ৮০ শতাংশ ডিম প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসে। প্রান্তিক খামারিরা ৮০ শতাংশ ডিম উৎপাদন করে। আবার গ্রামের দরিদ্র নারীরাও দু একটি করে মুরগি পালন করে পুষ্টির যোগান দেয়।
কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারে মুরগি পালন হুমকির মুখে পড়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাছাড়া হাওড়ের হাঁসের ডিমের কথা প্রচার করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওড়ের হাঁসের ডিমের বিষয়ে প্রচার করতে হবে।
পুষ্টি সম্পর্কে বলেন, আমাদের কমপ্লিট ফুড সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। সেখানে সবজি, মাছ ও মাংসের কথাও বলতে হবে। ক্যান্সার অনেক বেড়ে গেছে। প্রায় ঘরে ঘরে নারীরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ডিম খেলে ক্যান্সার কমে- এটি প্রচার করতে হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, মৌসুমভেদে ডিমের দাম বাড়ে ও কমে। এক্ষেত্রে বিষয়টি সামনে রেখে রিপোর্ট করতে হবে। কিন্তু খাদ্যের দাম ত কমে না। আমাদের সাত হাতের মধ্যে সংখ্যা কমাতে হবে। কেননা এখানে খামারিরা দাম পায় না। ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হয়। কারওয়ান বাজারে এসে অনেক হাত বদলে যায়। এসব কঠোর হাতে দমন করা হবে।
ক্ষুদ্র খামারিদের সহায়তা বাড়াতে হবে। তিনি খামারের ম্যানেজমেন্ট ভালো করার আহ্বান জানান।