× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনপ্রশাসনে শুরু শুদ্ধি অভিযান

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:১৪ পিএম

জনপ্রশাসনে শুরু শুদ্ধি অভিযান

অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। নানা কারণে বিতর্কিত সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনে সরিয়ে দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়টিতে শুদ্ধি অভিযানের গুঞ্জন শুরু হয়। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সরিয়ে দেওয়া হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের (এপিডি) অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হককে। তাকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বিসিএস-১৭ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ সরকারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। তাকেই (এপিডি) উইংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। 

সদ্য বদলি হওয়া এপিডি এরফানুল হক সাবেক জনপ্রশাসন সচিবের বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে দলটির অনুগত কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তোলা হয়। কারণ নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগকে কেন্দ্র করে এপিডি উইং থেকে বিভিন্ন তথ্য অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছিল। যে কারণে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে এপিডি উইংয়ে একটি বিশেষ দলের অনুগত কর্মকর্তাদের দিয়ে গোটা জনপ্রশাসন পরিচালিত হয়েছে। যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পদায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। অন্য মত-পথের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়ে এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আর এর নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন সাবেক জনপ্রশাসন সচিব মোখলেস উর রহমান।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া সাবেক জনপ্রশাসন সচিবের আমলে প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছিল। শুধু একটি বিশেষ পক্ষের কর্মকর্তাদের সুবিধা দিতে গিয়ে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়। তার এক বছরের বেশি সময়ে মাঠ প্রশাসনে ডিসি ও ইউএনও পদে যারা পদায়িত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই ওই বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শের কর্মকর্তা। আবার অনেকেই সচিবের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া জনপ্রশাসন থেকে অতি গুরুত্বপূণ তথ্য ও সিদ্ধান্ত বিশেষ একটি দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ করা হতো। কাকে কোথায় পদায়ন করা হবে- সেসব তথ্য আগাম সেখানে পৌঁছানোর পরপরই দলটির পক্ষ থেকে নিজেদের কর্মকর্তাদের পদায়নের জোর লবিং চলত। এছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সচিবালয়ে কোন কর্মকর্তাকে পদায়ন করতে হবে বা কারা যোগ্য ও দক্ষ- সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য এপিডি উইং থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবগত করা হতো না; যা দিনের পর দিন ঘটতে থাকার এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, গত এক বছর জনপ্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের (এপিডি) উইং কার্যত একটি বিশেষ রাজনৈতিক লবিংয়ের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত, পদোন্নতি যাচাই সবকিছুতেই পক্ষপাতের ছাপ ছিল। এমনকি ৫ আগস্টের পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশকিছু সংখ্যক কর্মকর্তাকে নানা অজুহাতে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়। অথচ তারা ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিগত সরকারের আমলে পদে পদে বঞ্চিত হয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানেও বিষয়টির সত্যতা মিলেছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবগত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পেশাদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে দলবাজ কর্মকর্তাদের সরাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এপিডি ইংয়ের শুদ্ধির খবর জানাজানি হওয়ায় গোটা প্রশাসনে চলছে নানা আলোচনা।

নতুন সচিব না আসা পর্যন্ত বড় পদে বদলি ও পদায়ন স্থগিত

সূত্র বলছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন সচিবকে পরিকল্পনা কমিশনে বদলি করার পর মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে বিগত এক বছরে প্রশাসনের বড় অংশ পরিচালিত হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছে, নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে বদলি বা পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তবে নতুন সচিব যোগদানের পর ধাপে ধাপে বদলি ও পদোন্নতির কাজ শুরু হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে যারা বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন, তাদের সরিয়ে নতুনভাবে প্রশাসন সাজানো হবে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুদ্ধি অভিযান যদি শুধুই ‘প্রতিশোধের অভিযান’ হয়, তাহলে প্রশাসনে আস্থাহীনতা আরও বাড়বে। তবে যদি ন্যায্যতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এটি হয়, তাহলে তা দীর্ঘদিনের পক্ষপাতের অবসান ঘটাতে পারে। শুদ্ধি অভিযান শুধু বদলি নয়। এটি হতে হবে কাঠামোগত সংস্কার। নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাব রোধে স্থায়ী নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, এপিডি উইং প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে যদি পক্ষপাত থাকে, তাহলে পুরো ক্যাডারের ওপর তার প্রভাব পড়ে। এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুনভাবে প্রশাসন সাজানোর। অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করতে হলে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অতিরিক্ত সচিব বলেন, তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল বদলি নয়, বরং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার করার একটি বড় উদ্যোগ হতে পারে। এবার প্রশাসনকে শুধু শুদ্ধ নয়, কার্যকরও করতে হবে। রাজনৈতিক ভারসাম্যের নামে পক্ষপাত চলবে না। এই বার্তাই হবে মূল।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা