× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চামড়াশিল্পের উন্নয়নে ৭ দফা দাবি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৫৭ পিএম

চামড়াশিল্পের উন্নয়নে ৭ দফা দাবি

দেশের চামড়াশিল্পের বর্তমান শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি, নিম্নতম মজুরি, চাকুরির নিশ্চয়তা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধানসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই এর মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে ‘বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ওশি ফাউন্ডেশন) ভাইস চেয়ারম্যান ড. এস এম মুরশেদ ও প্রোগ্রাম লিড  মো. আলম হোসেন, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম প্রমুখ। 

লিখিত বক্তব্যে ড. এস এম মুরশেদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাসমূহের তথ্য সংরক্ষণ ও বাস্তব পরিসংখ্যান চিত্র প্রকাশ করতে হবে। সুষ্ঠু রাসায়নিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা, আইএলও কনভেনশন ১৫৫ (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা), কনভেনশন ১৮৭ (কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়ন এবং কনভেনশন ১৯০ (সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ) অনুসমর্থনের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। তা ছাড়া চামড় শিল্পে জন্য একটি অভিন্ন টিসিসি গঠন, ট্যানারি কারখানায় প্রি-ট্রিটমেন্ট কার্যকর করা, চামড়া শিল্পকে ইপিজেডের আওতায় নিয়ে যাবার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ সনদ অর্জনে মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি মানসম্মত কর্মক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও সলিডার সুইসের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত বিল্ডিং এ সাসটেইনাবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের অধীনে শিল্পটিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে উন্নীত করতে কাজ করা হচ্ছে। 

এ সময় তিনি ৭টি সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে-১. চামড়াশিল্পকে ইপিজেডের আওতায় নিয়ে যাবার বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে যে আলোচনা হচ্ছে সে বিষয়ে মালিক, শ্রমিক সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা ছাড়া আগামী নির্বাচনে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের ইশতিহারে এ শিল্প নিয়ে দিকনির্দেশনা থাকতে হবে ও সরকার ও বিরোধীদল তা বাস্তবায়ন করবে। ২. অবিলম্বে চামড় শিল্প শ্রমিকদের জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. চামড়াশিল্পের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত ত্রিপাক্ষিক পরামর্শ পরিষদ গঠন করতে হবে। সেই সাথে সেক্টর নীতি, নিরাপত্তা মান,  রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার ও মজুদের নিয়মাবলী প্রণয়নে অর্থপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় এবং সেক্টরাল সংলাপ (সরকার-শ্রমিক-নিয়োগকর্তা) নিশ্চিত করতে হবে। ৪. শ্রম আইন প্রয়োগ জোরদার করা: নিয়মিত ও কার্যকর পরিদর্শন নিশ্চিত করা, আইন লঙ্ঘনের শাস্তি এবং বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,  দেশের বিদ্যমান শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং সেই সাথে চামড়া শিল্প পরিদর্শনের জন্য প্রনয়ণকৃত অভিজ্ঞা চেকলিস্টের কার্যকর অনুশীলন করা। 

৫. ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ (স্বাস্থ্য বীমা, চিকিৎসা সেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ) কার্যকর করা এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালু করা। ৬. ট্যানারিতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার কার্যকরণসহ কঠিন ও তরল বর্জ্যের সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, যথাযথভাবে কারাখানা রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং কারখানাগুলোতে রাসায়নিক দ্রব্যাদির যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এবং ৭. চামড়া শিল্প শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে কারখানায় সেফইটি কমিটি গঠন ও কার্যকর করা এবং শ্রমিকদের যত নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করা, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী গড়ে তুলতে মালিকগণকে উৎসাহিত করা, যাতে করে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের পথ সুগম হয়।

মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, চামড়াশিল্পে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন না পাওয়া বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। চামড়াশিল্প পাকিস্তান আমলে শুরু হলেও সেভাবে এগিয়ে যেতে পানেনি, যতটা অগ্রসর হয়েছে গার্মেন্টসশিল্প। 

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন চামড়াশিল্পের উন্নয়নে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কাজের কারণে খাতটি খুবই সমৃদ্ধময় হবে। আমরা অর্থনীতির সেক্টরকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারবো। 

তিনি বলেন, এখাতে ১০ লাখ লোক প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। পরিবেশ ও প্রতিবেশের দূষণ না করে এ শিল্পকে বিশ্বমানের অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা