× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে ‘৯৯৯’

শাহরিয়ার জামান দীপ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৪ পিএম

আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে ‘৯৯৯’

২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল, মোহাম্মদপুরের বসিলায় আব্দুল কাদের জীতুর পৈতৃক নিবাস দখল করতে আসে সন্ত্রাসীরা। জিতু কয়েক দফা থানায় ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি। পরে ফোন করেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে। এর অপারেটর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানার সঙ্গে কানেক্ট করিয়ে দেন। ১০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি দেখেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এমন হাজারো ঘটনার সাক্ষী ৯৯৯-এর কর্মীরা। সমস্যার সমাধানে এভাবেই জনসাধারণের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকে দুর্ঘটনা, বাল্যবিবাহ, অগ্নিকাণ্ড, পাচার ও সহিংসতার ক্ষেত্রে জরুরি সহায়তার জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। 

হেল্পলাইনের তথ্য অনুসারে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৮১২টি জরুরি কল পেয়েছে ৯৯৯। এর মধ্যে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭০টি কলে সেবা দেওয়া হয়। সেবার হার ৪৩ দশমিক ৯২। বাকি ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৪২টি কল জরুরি সেবার বাইরে হওয়ায় কলারকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই সময়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৪টি জরুরি সেবা দিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সেবা দেয় ১৯ লাখ ৭ হাজার ৫১২টি। সেবার হার ৮৩ দশমিক ৪৪। ফায়ার সার্ভিস সেবা দেয় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭২২টি এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৯টি। সেবার হার যথাক্রমে ৭ দশমিক ৮৬ ও ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে ৯৯৯ কার্যক্রম চালু হয়। যেকোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে জরুরি সেবা পেতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে যে কেউ এ নম্বরে ফোন করতে পারে। যেকোনো ফোন থেকে বিনামূল্যে এ নম্বরে কল করা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ জরুরি সেবার সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ যুক্ত রয়েছে। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ-নির্ভর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কার্যক্রমে ধস নেমেছিল। অবশ্য, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯৯৯-এর স্বাভাবিক পরিষেবায় আবার আস্থা ফেরে মানুষের। ছয় ধরনের সহযোগিতা চাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেগুলো হলো- শব্দদূষণ, অগ্নিকাণ্ড, চিকিৎসা, শারীরিক নির্যাতন বা মারামারি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং দুর্ঘটনা।

৯৯৯ হেল্পলাইনের মুখপাত্র ইন্সপেক্টর আনোয়ার সাত্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দিন দিন ৯৯৯-এর ওপর মানুষের আস্থা বাড়ছে। ফলে, আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি কল পাচ্ছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গভীর রাতে উচ্চ শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে তেমন কেউই থানায় যেতেন না। কিন্তু এই টোল ফ্রি নম্বরে কল করে যে কেউ খুব সহজেই এমন বিষয়েও অভিযোগ জানাতে পারেন।

বর্তমানে ৯৯৯ হেল্পলাইনে ১০০টি ওয়ার্ক স্টেশন রয়েছে এবং একবারে ৮০টি কল রিসিভ করতে পারে। বাকি ২০টি আউটগোয়িং ফোনের জন্য রাখা হয়েছে। পূর্বাচলে আরও ১০০টি ওয়ার্ক স্টেশন স্থাপন অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ ছাড় পেলে ৩-৪ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। এটা প্রস্তুত হয়ে গেলে আরও বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। 

সুবিধার পাশাপাশি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ৯৯৯ সেবা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মিসড কল এসেছে ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৯টি। অপ্রয়োজনীয় ফোন এসেছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৬৪টি। এ ছাড়াও অনেক সময় বিভিন্ন থানার সঙ্গে লাইন কানেক্ট করতে কিছুটা সময় লেগে যায়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি থানার সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

৯৯৯-এর প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনগণের আস্থায় পরিণত হয়েছে ৯৯৯ সেবা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা অব্যাহত রয়েছে। ৯৯৯ সব সময় কল গ্রহণ করে, কীভাবে সেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনি বলেন, অনেকেই বলে থাকেন থানায় ফোন দিয়ে পাওয়া যায় না, ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়। 

‘১৮৪৭ জন জনবল নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের আলাদা ইউনিট হিসেবে ৯৯৯ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ডেমরার আমুলিয়ায় ৯৯৯ গঠনের জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পৃথক ইউনিট হওয়ার পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আপডেটেড সফটওয়্যারসহ হেল্পলাইনটি আরও দক্ষতার সঙ্গে সবাইকে সেবা দিতে পারবে’- বলেন ৯৯৯-এর প্রধান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা