প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৪ পিএম
গুলশানের হোটেল ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
নারীরা শিগগিরই কর্মস্থলে সন্তান নিয়ে যাওয়ার আইনি অধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত ‘রেকগনিশন: এ ফার্স্ট স্টেপ টুয়ার্ডস জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রত্যেক অফিসে বাধ্যতামূলক ডে কেয়ার সুবিধা বাস্তবায়ন ভবিষ্যতের জন্য একটি পথপ্রদর্শক উদ্যোগ হবে।
সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন, নারীরা অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের বড় অংশ বহন করেও কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন ঘরের কাজসহ নারীদের প্রতিটি অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হাউসহোল্ড প্রোডাকশন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে নারীদের অবদান ৮৫ শতাংশ, যা এককভাবে জিডিপির ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশের সমান।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নারীরা ঘরে সম্মানিত হবেন এবং পারিবারিক সহিংসতা থেকে মুক্ত থাকবেন। সরকারের স্বীকৃতি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বড় পদক্ষেপ।
এমজেএফ-এর পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, এখনও এ ধরনের সমীক্ষা আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়া জরুরি।
এডিবি-এর প্রতিনিধি নাসীবা সেলিম বলেন, সমাজে এখনো গৃহস্থালি কাজ নারীর দায়িত্ব বলে ধরা হয়। এই মানসিকতা বদলানো সময়ের দাবি।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের যৌথ অংশগ্রহণেই অবৈতনিক যত্নমূলক কাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কানাডিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধি স্টেফানি সেন্ট-লরেন্ট ব্রাসার্ড মন্তব্য করেন, গৃহস্থালি কাজ কোনো খরচ নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।
নাগরিকতা সিইএফ-এর ক্যাথারিনা কুনিগ জানান, তারা সামনে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব কাজী গোলাম তৌসিফ বলেন, নারী-পুরুষ মিলে কাজ করলে উন্নয়ন টেকসই হবে। এটিই হওয়া উচিত সমাজের মূলমন্ত্র।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এমজেএফ-এর গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারপারসন পরভীন মাহমুদ বলেন, নারীদের অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি দীর্ঘমেয়াদি অ্যাডভোকেসির ফল। ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ প্রচারাভিযান এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।