পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) একীভূতকরণসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রবিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে সকাল থেকে দপ্তরগুলোতে বিলসহ নানা ধরনের সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন। এর আগে গত শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার।
জানা যায়, দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চার দফা দাবিতে গণছুটি কর্মসূচি পালন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৭টি উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে গণছুটি কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জেলার প্রায় এক লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে গণছুটি নামে অনুপস্থিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেছেন, অতীতে আন্দোলনের পরও তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
অঞ্জু রানী মালাকার অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার কমিটি গঠনসহ সংকট সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী আশ্বাসের পরও কিছুই বাস্তবায়ন করেনি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। উপরন্তু আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের চাকরিচ্যুতি, বদলিসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্ত করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্তাদেশ বাতিল এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
নেত্রকোণায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জরুরি সেবা নিতে আসা হাসিবুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আমি সেবা নিতে এসে দেখি, কোনো লোকজন নেই। ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাউকে পাইনি। এখন ফিরে যাচ্ছি। আমার মতো আরও অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।’
শফিকুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক তাদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং কমিটি নামক নাটক বন্ধ করা। বিআরইবির দু্র্নীতি ও দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎকর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এতে বিদ্যুৎক্ষেত্রে আসবে আমূল পরিবর্তন ও গ্রহক পাবে হয়রানিমুক্ত সেবা।
লাইনম্যান পারভেজ হাসান সৌরভ বলেন, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। যতবার আন্দোলন করি, সে আন্দোলন কমিটি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবায়ন হয় না।
তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার অজুহাতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মৌলভীবাজার থেকে শরীয়তপুরে বদলি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার সনৎ কুমার ঘোষ জানান, তাদের অধীনে ২২৭ জন লাইনম্যান রয়েছে। এর মধ্যে সদর দপ্তরে ১৮ জন থাকলেও বর্তমানে মাত্র ২-৩ জনকে পাওয়া যাচ্ছে। কারও ছুটির আবেদন জমা হয়নি। গণছুটির মতো কর্মসূচি রাষ্ট্রবিরোধী। এই সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুশান্ত রায় মোবাইলে বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটির আবেদন দিয়ে চলে গেছেন।
কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যাবশ্যক পরিষেবা। তাই এই সেবা প্রদানে বাধাদান বা বিঘ্ন ঘটানো অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত এবং গণছুটি নামে অনুপস্থিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলো। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।